ঢাকা | আগস্ট ১৪, ২০২৬ - ১:১০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ? চন্দ্রঘোনায় বিএনপির ক্ষোভ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Friday, August 14, 2026 - 5:24 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 28 বার

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা এলাকায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তথ্য সংগ্রহের তালিকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তির নাম রয়েছে। এ নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি তালিকায় দেখা যায়, চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার জন্য ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে একাধিক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় ‘অপেক্ষমান’ ও ‘রিজার্ভ’সহ বিভিন্ন শ্রেণিতে তথ্য সংগ্রহকারীদের নাম রয়েছে।

তালিকাটির একটি অংশে ওমর ফারুক নামটি লাল চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, ওমর ফারুক চন্দ্রঘোনা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে তার নাম কীভাবে এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

তাদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে। অথচ মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নাম থাকলে কর্মসূচিটির নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচন ও তথ্য সংগ্রহ একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এখানে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতের সুযোগ রাখা উচিত নয়। যারা দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন, তাদের মধ্য থেকেও যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি, বিশেষ করে চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের যুবদল, ছাত্রদলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী এবং সক্রিয় নেতাকর্মীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হোক। একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে দায়িত্ব বণ্টন করা হলে ভবিষ্যতে বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতৃবৃন্দ বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক আমরা চাই না। তালিকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কারও নাম থাকলে তা যাচাই করা প্রয়োজন। দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে যোগ্য, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, চন্দ্রঘোনায় তালিকাটি পুনরায় যাচাই করে কোথাও ভুল বা রাজনৈতিক পক্ষপাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা সংশোধন করা জরুরি। বিশেষ করে ওমর ফারুকের রাজনৈতিক পরিচয় ও তাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।

এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিষয়টি রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর এমপির নজরে এনে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের প্রত্যাশা, সংসদ সদস্য বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন এবং সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে তালিকাটি যাচাই করে প্রকৃত যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেবেন।

তবে তালিকায় নাম থাকা ওমর ফারুকের রাজনৈতিক পরিচয় এবং তাকে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একইভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, ফ্যামিলি কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি যেন কোনো রাজনৈতিক বিরোধের কারণ না হয়, সে জন্য শুরু থেকেই স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।