ঢাকা | আগস্ট ১৯, ২০২৬ - ১০:৩৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

বর্ণাঢ্য আয়োজনে সিবিএমসিবি এর ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, August 19, 2026 - 2:12 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 21 বার

আরিফ রব্বানী ময়মনসিংহ:স্বল্প খরচে হয়রানি মুক্ত পরিবেশে প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত

কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশ (সিবিএমসি) নামক স্বাস্থসেবা প্রতিষ্ঠানটির
প্রতিষ্ঠার ৩২ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সিবিএমসি ডে’ উদযাপন করা হয়েছে ।

৩২ বছর আগে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটির ৩২ তম বছর পুর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ময়মনসিংহ সদরের উইনার পাড় বগামারীস্থ প্রতিষ্ঠানটির কলেজ ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য র্যালী , আলোচনা সভা , সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই বর্ষপূর্তি উৎসবটি জাঁকজমকপূর্ণ , উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ডাঃ মামনুর রশিদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিবিএমসিবি’র চেয়ারম্যান, গভর্নিং বডির সভাপতি প্রফেসর ডাঃ আব্দুল মান্নান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিবিএমসিবি’র অধ্যক্ষ এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রফেসর ডা: মাহফুজুর রহমান খান চৌধুরী এবং উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ডাক্তার এমদাদুল হক শাকিল প্রমূখ ।

আয়োজকেরা জানান, গত বছর প্রথমবারের মতো ‘সিবিএমসি ডে’ উদযাপন করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে দিনটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের আয়োজনে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

সকালে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। পরে দিনব্যাপী চলে নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ও বিভিন্ন আয়োজন।

স্বাগত বক্তব্যে সিবিএমসির অধ্যক্ষ ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ডা. মাহফুজুর রহমান খান চৌধুরী বলেন, প্রয়াত অধ্যাপক মোফাখখারুল ইসলাম নিজ হাতে এ কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠানটির পথচলা শুরু। গত বছর প্রথমবারের মতো সিবিএমসি ডে উদযাপন করা হয়। ভবিষ্যতেও শিক্ষকদের নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে এ আয়োজন করা হবে।

প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণের সফলতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, গ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়াই ছিল সিবিএমসির মূল লক্ষ্য। গত ৩২ বছরে সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে প্রতিষ্ঠানটি অনেকটাই এগিয়েছে।

সিবিএমসির অধ্যক্ষ বলেন, শতভাগ না হলেও আমরা ৯০ শতাংশ চেষ্টা করেছি, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সব সময় সেবা দিতে পারি। আমাদের হাসপাতালে শয্যার ভাড়া ও রোগীদের চিকিৎসাসেবার খরচ অত্যন্ত কম। সারা বাংলাদেশে এমনটা আর কোথাও হয় কি না, আমাদের জানা নেই।

সিবিএমসির সামনে অ্যাক্রেডিটেশনের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের স্বীকৃতি পেলে এ কলেজের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা এবং চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের সুযোগ আরও বাড়বে।

ডা. মাহফুজুর রহমান খান চৌধুরী বলেন, বোর্ড যদি আমাদের স্বীকৃতি দেয়, তাহলে সারা বিশ্বে আমাদের চিকিৎসকেরা চাকরি করার সুযোগ পাবেন। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গেলেও সফল হওয়ার সুযোগ বাড়বে। আমরা যাতে এই অ্যাক্রেডিটেশনে উত্তীর্ণ হতে পারি, সে জন্য সবার দোয়া চাই।

শিক্ষার পাশাপাশি সিবিএমসিতে গবেষণার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সিবিএমসির অধ্যক্ষ।
তিনি বলেন, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষার্থীরা গ্রামে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করেন। এসব গবেষণা প্রতিবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে প্রকাশ করা হয়। গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠান থেকেও অনুদান দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের দুটি দলকে গবেষণার জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছে। তারা বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করছেন।

মাহফুজুর রহমান খান চৌধুরী বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করেই এসব গবেষণার মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। গ্রামীণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা যাতে সহজে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটিই গবেষণার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন সিবিএমসি ডে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ চৌধুরী, ইমদাদুল হক শাকিলসহ সংশ্লিষ্টরা।