ঢাকা | আগস্ট ২৪, ২০২৬ - ৫:০৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ট্রাম্পকে কার্নির কঠোর জবাব: ‘Dollar for Dollar’

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, August 23, 2026 - 4:42 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 37 বার

মো. নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র) প্রতিনিধি:অটোয়া: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কের কড়া জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ওপর যে শুল্ক আরোপ করবে, কানাডাও তার “dollar for dollar” জবাব দেবে।

শুক্রবার রাতে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর শনিবার অটোয়ায় সংবাদ সম্মেলনে কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্ত কানাডার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন কানাডার কাছ থেকে অনেক বেশি দাবি করেছে, কিন্তু বিনিময়ে যথেষ্ট কিছু দিতে চায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক কার্যকর করেছে। এর জবাবে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। স্টিল, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, কৃষি সরঞ্জাম, পাল্প ও কাগজ এবং ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন খাত এই পাল্টা ব্যবস্থার আওতায় আসবে।

কার্নি স্পষ্ট করে বলেন, এই বিরোধ শুধু শুল্কের হার নিয়ে নয়। কানাডার স্বাধীন বাণিজ্যনীতি, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বও এর সঙ্গে জড়িত। তিনি জানান, কানাডা এমন কোনো চুক্তি করবে না, যা ভবিষ্যতে অন্য দেশের সঙ্গে স্বাধীনভাবে বাণিজ্যচুক্তি করার ক্ষমতা সীমিত করে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থেকে বের করে আনার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর সরকার নতুন রপ্তানি বাজার তৈরি, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। কার্নির ভাষায়, কানাডার ভবিষ্যৎ কোনো একটি দেশের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না।

কার্নির কঠোর অবস্থানের প্রতি বিভিন্ন প্রদেশের নেতারাও সমর্থন জানিয়েছেন। বিরোধী দলীয় নেতা পিয়েরে পলিয়েভও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যচাপের মুখে কানাডায় ‘Team Canada’ অবস্থান আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পও কানাডার পাল্টা অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। ফলে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ দুই প্রতিবেশী ও বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাণিজ্য সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে দুই দেশের ব্যবসা, ভোক্তা ও সরবরাহব্যবস্থার ওপরই চাপ বাড়তে পারে।

কার্নির বার্তা অবশ্য পরিষ্কার—যুক্তরাষ্ট্র কানাডার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও কানাডার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও সার্বভৌম সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ কানাডার হাতেই থাকবে।