ঢাকা | আগস্ট ৩১, ২০২৬ - ৩:৩৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

তানোরের অফিস পাড়ায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, ইমনকে সাময়িক বরখাস্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Saturday, August 29, 2026 - 3:41 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 12 বার

সোহানুল হক পারভেজ রাজশাহী ব্যুরো প্রধান:ইমনের ভিডিও নিয়েও প্রশ্ন ইমরুল কাশেম ইমনের সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজ নিয়ে।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে তানোর ভূমি অফিসের কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, সেখানে ব্যবহৃত ভিডিও ফুটেজে পবা ভূমি

অফিসের চিত্র দেখা গেছে। ফলে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, এতে থাকা ব্যক্তি কে এবং ইমনের সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা কী—এসব বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।তবে ভিডিওটির প্রকৃত স্থান, সময় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।স্থানীয়দের প্রশ্ন, ভিডিওটি যদি তানোর ভূমি অফিসের না হয়ে থাকে, তাহলে সেটিকে ইমনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে কীভাবে বিবেচনা করা হলো? আর ভিডিওটি যদি তানোর

অফিসেরই হয়ে থাকে, তাহলে সেটির সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই করা হয়েছে কি না, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন অর্থ লেনদেন মানেই কি অনিয়ম?স্থানীয়দের আরও দাবি, ভূমি অফিসে সব ধরনের অর্থ লেনদেন একই প্রকৃতির নয়। বর্তমানে নামজারি-সংক্রান্ত অধিকাংশ সরকারি ফি অনলাইনে পরিশোধের সুযোগ থাকলেও কিছু সরকারি রাজস্ব, খাস সম্পত্তি, ইজারা ও অন্যান্য নির্ধারিত কার্যক্রমে সরকারি বিধি অনুযায়ী অর্থ গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে।তাই কোনো ভিডিওতে টাকা লেনদেনের দৃশ্য দেখা গেলেই সেটিকে অবৈধ লেনদেন হিসেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে

পৌঁছানোর আগে—টাকা কার কাছ থেকে, কী কারণে, কোন কাজের জন্য, কত টাকা এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।সৎ কর্মকর্তারা যেন ষড়যন্ত্রের শিকার না হন’,তানোরের সচেতন নাগরিকদের দাবি, সরকারি দপ্তরে কর্মরত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত হতেই হবে। কিন্তু তদন্তের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হলে একজন সৎ কর্মকর্তার সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তাঁদের ভাষ্য, তানোরের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এমন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন, যারা সাধারণ মানুষকে হয়রানি না করে নিয়ম অনুযায়ী সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তাঁদের কেউ অনৈতিক সুবিধা নিতে বা দিতে রাজি না হওয়ায় কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের বিরাগভাজন হচ্ছেন কি না, সেটিও প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত। একজন সচেতন নাগরিক বলেন, “অপরাধী হলে শাস্তি চাই, কিন্তু নিরপরাধ হলে তাকে শাস্তির মুখে ঠেলে দেওয়া যাবে না। তানোরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই সেটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া দরকার।”নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি,স্থানীয়দের মতে, তানোরের অফিসপাড়ায় কোনো ধরনের স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বা ব্যক্তির প্রভাব থাকলে তা প্রশাসনের জন্য যেমন ক্ষতিকর,

তেমনি সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং অভিযোগকারীদের পরিচয় ও স্বার্থ—সবকিছু যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।তাঁদের প্রত্যাশা, কোনো কর্মকর্তা সত্যিই অনিয়মে জড়িত থাকলে তিনি যেন কোনোভাবেই ছাড় না পান; আবার কোনো কর্মকর্তা সৎভাবে দায়িত্ব পালন করলে ব্যক্তিগত স্বার্থ,

চাপ কিংবা অপপ্রচারের কারণে যেন তাঁর বিরুদ্ধে অন্যায় ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।ইমরুল কাশেম ইমনের সাময়িক বরখাস্তের ঘটনাতেও প্রচারিত ভিডিও, অভিযোগের উৎস, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও প্রকৃত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।তাঁদের মতে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ‘অভিযোগ নয়, প্রমাণ’ হওয়া উচিত মূল ভিত্তি। একই সঙ্গে গণমাধ্যমেরও উচিত কোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা।