সখিপুরে বসতভিটা দখল চেষ্টার অভিযোগ, বৃদ্ধসহ আহত ৬
সখিপুর (টাংগাইল) প্রতিনধি:টাঙ্গাইলের সখিপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বসতভিটা দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোছা. রেখা নামে এক নারী সখিপুর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ওই বসতভিটা সখিপুর মৌজার খতিয়ান নং ৭৬ ও দাগ ৩৯৩ এর ফায়ার সার্ভিস এর পূর্বপাশে অবস্থিত।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সখিপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোছা. রেখার পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তরা তার বসতভিটা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
এ ঘটনায় গত ২১ জুলাই সখিপুর থানায় একটি অভিযোগও করেছিলেন তারা। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য একাধিকবার বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা সেখানে উপস্থিত না হয়ে উল্টো হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আদালতে একটি মামলা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ১০ জনকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রেখাদের পৈতৃক বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় তারা বাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ভাঙচুর করতে থাকেন।
বৃদ্ধ মো. একাব্বর আলী (৭০) হামলাকারীদের বাধা দিলে তাকে লাঠি, শাবলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে রেখা, তার ভাইয়ের স্ত্রী লাকী (২৫), মেয়ে সাথী (২১), মা রহিমা (৬০) ও স্বামী সুরুজ্জামান (৪৫) আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় রেখার ভাইয়ের স্ত্রী লাকীর বাম কানে থাকা প্রায় দুই আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল এবং গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তার কান কিছুটা ছিঁড়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
পরে আহতরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ আসার খবর পেয়ে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে অভিযোগকারীর দাবি।
আহতদের মধ্যে মো. একাব্বর আলীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সখীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মোছা. রেখা। তিনি ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।








