গল্পের প্রধান চরিত্র পাহোম একজন সাধারণ কৃষক। তার নিজের কিছু জমি থাকলেও সে তাতে সন্তুষ্ট ছিল না। তার মনে হতে থাকে—আরও একটু জমি পেলে সে আরও সুখী হবে, আরও নিরাপদে জীবন কাটাতে পারবে। ধীরে ধীরে জমির প্রতি তার আকাঙ্ক্ষা বাড়তে থাকে।
একসময় পাহোম এমন একটি সুযোগ পায়, যেখানে সে এক দিনের মধ্যে যতটুকু জমি হেঁটে ঘুরে এসে চিহ্নিত করতে পারবে, ততটুকু জমি তার হবে। কিন্তু শর্ত হলো, দিনের শেষে সূর্য ডোবার আগে তাকে আবার শুরুর জায়গায় ফিরে আসতে হবে।
পাহোম যত বেশি জমি পাওয়ার চেষ্টা করে, তত দূরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত নিজের লোভের কারণে সে এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়ে যে দৌড়ে ফিরে আসার সময় তার মৃত্যু হয়।
গল্পের শেষটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পাহোমের জন্য শেষ পর্যন্ত যতটুকু জমির প্রয়োজন হয়, তা হলো একটি কবরের জন্য যতটুকু জায়গা—প্রায় ছয় ফুট।
টলস্টয়ের এই গল্প আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়—মানুষের আসলে কতটুকু সম্পদ দরকার?
জীবনে অর্থ, বাড়ি, জমি ও সম্পদ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যখন সম্পদের প্রতি আকাঙ্ক্ষা মানুষের শান্তি, সম্পর্ক ও মানবিকতাকে নষ্ট করতে শুরু করে, তখন সেই সম্পদ আর আশীর্বাদ থাকে না; বরং তা বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
মানুষ সারাজীবন ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে, আরও বড় বাড়ি চায়, আরও জমি চায়, আরও অর্থ চায়। কিন্তু জীবনের শেষ মুহূর্তে তার সঙ্গে এসব সম্পদের কিছুই যায় না। শেষ পর্যন্ত মানুষকে পৃথিবীর মাটির কাছেই ফিরে যেতে হয়।
টলস্টয়ের গল্পের শিক্ষা তাই অত্যন্ত সহজ কিন্তু গভীর: মানুষের প্রয়োজন সীমিত, কিন্তু মানুষের লোভের কোনো সীমা নেই।
আমাদের জীবনে কতটা আছে—তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যা আছে তা নিয়ে আমরা কতটা সন্তুষ্ট, কতটা সুখী এবং কতটা মানবিক।
উপসংহার
“একজন মানুষের কতটুকু জমি প্রয়োজন?”—এই প্রশ্নের উত্তর শুধু জমির পরিমাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আসলে জীবনের একটি মৌলিক প্রশ্ন।
আমরা যদি সারাজীবন শুধু “আরও চাই” বলতে থাকি, তাহলে হয়তো একদিন বুঝতে পারব—যে সুখের জন্য এত কিছু অর্জন করেছিলাম, সেই সুখটাই উপভোগ করার সময় আমাদের ছিল না।
শেষ পর্যন্ত মানুষের প্রয়োজন হয় মাত্র সেইটুকু জমি, যেখানে তার দেহটি চিরনিদ্রায় শায়িত হতে পারে।