থানায় হয়রানি বন্ধ ও ট্রাফিক শৃঙ্খলায় কড়া হুঁশিয়ারি: সেবার মানে আসছে বড় বদল… আরএমপি কমিশনার
জিয়াউল কবীর:পুলিশি সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন—সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। নগরীর থানাগুলোকে শতভাগ ‘জিরো কমপ্লেইন ইউনিট’ হিসেবে গড়ে তোলা, ট্রাফিক ব্যবস্থায় কঠোর শৃঙ্খলা আনায়ন এবং জনগণের দোরগোড়ায়
সরাসরি আইনি সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে আরএমপির দীর্ঘ অপরাধ পর্যালোচনা সভা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আরএমপি সদর দপ্তরের সভাকক্ষে বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে টানা বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে ছয় ঘণ্টা ধরে এই পর্যালোচনা সভা চলে। এতে সভাপতিত্ব করেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। দীর্ঘ আলোচনায় আগস্ট ২০২৬ মাসের সার্বিক অপরাধচিত্র, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সেবার অগ্রগতি নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে গতি আনার তাগিদ
সভায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে একগুচ্ছ নির্দেশনা দেওয়া হয়। থানায় আসা মামলাগুলো নিয়ম অনুযায়ী সঠিক ও সঠিকভাবে রুজু করা, দ্রুততম সময়ে সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করা এবং আদালতে নির্ভুল পুলিশ রিপোর্ট (চার্জশিট/চূড়ান্ত রিপোর্ট) দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া চিহ্নিত এলাকাগুলো থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার জোরদার, ওয়ারেন্ট তামিল বৃদ্ধি, পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা শতভাগ বাস্তবায়নে পুলিশ কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
জনবান্ধব সেবা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা
মাননীয় আইজিপি মহোদয়ের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও নির্দেশনা অনুযায়ী মেট্রোপলিটন এলাকার সব থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন ইউনিট’ হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন আরএমপি কমিশনার।
সেবাপ্রত্যাশী জনগণের সঙ্গে সব সময় শালীন, বিনয়ী, আন্তরিক ও সেবামূলক আচরণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়াতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত সেবা অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে প্রদানের তাগিদ দেওয়া হয়। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো পুলিশ সদস্য যেন অনুমতি ছাড়া নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত না থাকেন, সে বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও সড়কের অবৈধ যান বন্ধের কঠোর নির্দেশ
নগরীর সড়কের শৃঙ্খলা ও স্বস্তি ফেরাতে শব্দদূষণকারী হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ও বন্ধের জন্য কার্যকর অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন যেমন—শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রলি, ট্রাক্টর, নছিমন, করিমনসহ অপরাপর অবৈধ যান চলাচল বন্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ সড়কগুলোতে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও প্রসিকিউশন দাখিলের নির্দেশ দেন পুলিশ প্রধান।
সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ ও বিট পুলিশিং
নগরীর আবাসিক হোটেলগুলোতে নিয়মিত ও বিশেষ নজরদারি জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোথাও কোনো ধরনের অসামাজিক কাজ বা জুয়ার আসর না বসতে পারে। এছাড়া জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে নতুন শক্তিতে বেগবান করার ওপর জোর দেওয়া হয়, যেন নগরবাসী নিজ নিজ এলাকায় বসেই দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পেতে পারেন।
দীর্ঘ এই পর্যালোচনা সভায় আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, সকল উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং প্রতিটি থানার অফিসার ইনচার্জগণ (ওসি) উপস্থিত ছিলেন। সভার শেষান্তে আরএমপি কমিশনার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নগরবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়া ও জনসেবার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে সবাইকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।








