ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ - ১১:০৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

বিটিভির অনিয়ম নিয়ে পলাশ সাউয়ের প্রতিবাদ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, September 16, 2026 - 2:45 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 52 বার

আনোয়ার হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সিনিয়র ড্রামস বাদক ও রিদমিস্ট পলাশ কুমার সাউ দীর্ঘদিন ধরে বিটিভির বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রতিবাদ ও আন্দোলনে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি বিটিভির সঙ্গীত বিভাগের অনিয়মের অভিযোগ তুলে ২০২৩ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছেন বলে দাবি করেছেন।

পলাশ কুমার সাউ বিটিভিতে দীর্ঘদিন কাজ করছেন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাদ্যযন্ত্রী হিসেবে অংশ নিয়েছেন। তার সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের শিল্পী, সাংবাদিক ও কলাকুশলীরাও অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত ও প্রতিকারের দাবিতে যুক্ত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

২০২৪ সালে বিটিভির শিল্পী ও কলাকুশলীদের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পলাশ কুমার সাউকে সংগঠনটির সদস্য সচিব হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে বিটিভির অডিশন প্রক্রিয়া, কাগুজে অনুষ্ঠান, বাদ্যযন্ত্রী শাখার কার্যক্রম এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঢাকা কেন্দ্রে ১৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিটিভির বিভিন্ন শাখায় অনিয়মের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে আবেদন ও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের কয়েকটি নিয়ে তদন্ত ও অনুসন্ধান হয়েছে বলেও তারা দাবি করছেন।

এরই মধ্যে ২০২৬ সালের এপ্রিলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিটিভির পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির কাছে তথ্য চেয়েছে বলে জাগো নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে রাজস্ব খাতের মালামাল প্রকল্প খাতে দেখিয়ে আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

তবে পলাশ কুমার সাউকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, বিটিভিতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করায় পলাশ কুমার সাউকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। তার বিশেষ গ্রেডের তালিকাভুক্তি বাতিলের হুমকি দিয়ে শোকজ নোটিশ দেওয়ার অভিযোগও তারা করেছেন।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, একজন শিল্পীর মূল দায়িত্ব শিল্পচর্চা হলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলার অধিকার তার রয়েছে। তাদের দাবি, পলাশ কুমার সাউয়ের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে উত্থাপিত অভিযোগ ও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ—দুই বিষয়ই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

এদিকে বিটিভির শিল্পী ও কলাকুশলীদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অডিশন প্রক্রিয়া, শিল্পীদের সম্মানী, অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত দাবি করা হচ্ছে। এসব দাবির কিছু ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিটিভির মতো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ওঠা যেকোনো অনিয়মের অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হলে বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী বা প্রতিবাদকারী কোনো শিল্পী যেন প্রতিহিংসা বা হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

পলাশ কুমার সাউকে ঘিরে চলমান ঘটনাপ্রবাহে এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে।