ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ - ৭:৫০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ট্রাম্পের ‘পুরো ইরান ধ্বংস’ করার হুমকি, আলোচনার দরজাও খোলা

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, September 21, 2026 - 11:59 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 19 বার
প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)ওয়াশিংটন, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে’ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনে পুরো দেশ ধ্বংস করার বিষয়টিও তিনি বিবেচনা করছেন।

রোববার ফক্স নিউজের প্রধান বিদেশবিষয়ক সংবাদদাতা ট্রে ইয়িংস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে মোকাবিলায় তার সামনে কয়েকটি পথ রয়েছে—দেশটিকে ‘ধ্বংস করে দেওয়া’, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হতে দেওয়া অথবা একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। তিনি বলেন, ‘খুব বড় কিছু’ অদূর ভবিষ্যতে ঘটতে পারে।

ট্রাম্প আরও বলেন, তার প্রশ্ন হলো—‘কখন এবং যদি পুরো দেশটি উড়িয়ে দিতে হয়’; একই সঙ্গে তিনি ইরানকে ‘আচরণ ঠিক করার’ হুঁশিয়ারি দেন। USA TODAY-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্প এর আগেও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

তবে একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কূটনীতির সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন এ সপ্তাহে নিউইয়র্কে শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসার বিষয়ে ‘সম্ভবত’ আগ্রহী বলে জানান।

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের সামরিক কমান্ড সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে হামলা শুরু করে, তাহলে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আঞ্চলিক কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহায়তা করলে তাকেও সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে ইরানি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের জন্য তেহরানের শর্তের মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান, ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।

সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের রিয়াদ ও ইয়ানবু এলাকায় হামলার দাবি করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা বলছেন, অন্যদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের কথাও বলেছেন। ফলে আগামী দিনগুলোতে সামরিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।