১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ট্রাম্প Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026-এ স্বাক্ষর করেন। আইনটি রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয় অব্যাহত রাখা বড় আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ দিয়েছে। তবে ১০০ শতাংশ শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়নি; এটি আরোপের সিদ্ধান্ত ও সময় নির্ধারণের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত রাশিয়া থেকে এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে রাশিয়ার তেল হঠাৎ কমিয়ে দিলে ভারতের জ্বালানি ব্যয় ও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে ভারত বিভিন্ন উৎস থেকে বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী তেল সংগ্রহ অব্যাহত রাখার কথা বলেছে। নয়াদিল্লি সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন ভারতের সামনে কী পথ?
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের জন্য একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রক্ষা, অন্যদিকে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাই নয়াদিল্লি সম্ভবত একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করবে।
রাশিয়ার তেল পুরোপুরি বন্ধ করলে ভারতের আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে; আবার রাশিয়া থেকে বড় পরিমাণে তেল কেনা অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্কের ঝুঁকি বাড়বে। ফলে ভারতের জন্য সামনে রয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও কূটনীতির মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ।
প্রশ্ন এখন একটাই—ভারত কি রাশিয়ার সাশ্রয়ী তেল আমদানি ধরে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার পথ খুঁজবে, নাকি জ্বালানি সরবরাহের উৎস আরও দ্রুত বদলাবে?
