ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ - ১১:৩৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর: নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, September 28, 2026 - 1:46 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 8 বার
প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)রাজধানীর ইসিবি চত্বরে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের BrownFish Studio-তে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে নাগরিকের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার রাতে নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে থাকা স্টুডিওটিতে হামলা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সালমান মুক্তাদির। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা ভিডিওতে তিনি স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। বিভিন্ন আসবাব, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ও স্টুডিও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা লুট হয়েছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সালমান মুক্তাদিরের দাবি, চাঁদা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হামলা হয়েছে। তিনি ভিডিও বার্তায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাই কারা হামলার সঙ্গে জড়িত এবং হামলার প্রকৃত কারণ কী—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

হামলার সময় স্টুডিওতে থাকা কর্মীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সালমান মুক্তাদির জানান, তাঁর কয়েকজন কর্মী ভয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনায় কোনো কর্মী গুরুতর আহত হননি।

ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওতে দাঁড়িয়ে বলেন, ধ্বংসযজ্ঞ তাঁর স্বপ্ন থামিয়ে দিতে পারবে না। কর্মীদের কান্না না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আবারও কাজ শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বড় প্রশ্ন

একজন নাগরিকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল কিংবা ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে হামলা, ভাঙচুর বা লুটপাটের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগ সত্য হলে, হামলাকারী যে রাজনৈতিক পরিচয়েরই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে আরও কয়েকটি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বাংলাদেশে একজন সাধারণ নাগরিকের সবচেয়ে মৌলিক প্রত্যাশা—নিজের জীবন, পরিবার, ব্যবসা ও সম্পত্তি নিয়ে নিরাপদে থাকা। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হলো সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থনৈতিক অবস্থান কিংবা সামাজিক পরিচয়—কোনোটিই আইনের ঊর্ধ্বে হওয়া উচিত নয়। একইভাবে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে জনতার হাতে শাস্তি দেওয়ার সুযোগও থাকা উচিত নয়। অভিযোগ থাকলে তদন্ত হবে, প্রমাণ সংগ্রহ হবে এবং আদালতের মাধ্যমে বিচার হবে—এটাই আইনের শাসনের স্বাভাবিক পথ।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায়ও এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। নাগরিকের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়—এটি রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের মৌলিক প্রত্যাশা।

Inline image