আমার আইনজীবী, কর পরামর্শদাতা ও ঘনিষ্ঠ এক চিকিৎসক বন্ধু আমাকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যের মূল কথা হলো, কেবল পরিচিতি কিংবা বন্ধুত্বের কারণে কোনো দায়িত্ব নেওয়া উচিত নয়। নিজের বাসার ঠিকানা অন্য কারও ভিসার আবেদনে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আগেও জানতে হবে, সেটি কী উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে ব্যবহার করা হবে।
এই পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়ার পেছনে আমার ব্যক্তিগত
অভিজ্ঞতাও রয়েছে। একবার আমাকে প্রায় ৫০০ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে ওই অর্থ দিতে হয়েছিল, তা আজও আমার কাছে পরিষ্কার নয়। ফলে ঘটনাটিকে স্পনসরশিপের কোনো নির্দিষ্ট আইনি দায়ের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছি না। বরং এটি আমাকে শিখিয়েছে—কোনো অর্থ পরিশোধ বা দায়িত্ব গ্রহণের আগে তার কারণ, শর্ত ও সংশ্লিষ্ট নথি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
স্পনসর হওয়ার প্রসঙ্গে আমি এখন প্রথমেই জানতে চাই: কোন ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করা হচ্ছে? আমাকে কী নথিতে স্বাক্ষর করতে হবে? সেখানে আমার ভূমিকা কী? কোনো আর্থিক অঙ্গীকার থাকলে তার পরিধি কতটুকু? এসব প্রশ্নের উত্তর না জেনে শুধু কারও আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিতে চাই না।
একইভাবে, ভিসার আবেদন, আমন্ত্রণপত্র, বাসার ঠিকানা ব্যবহার এবং আইনগত আর্থিক স্পনসরশিপকে এক বিষয় হিসেবে ধরে নেওয়াও ঠিক হবে না। সংশ্লিষ্ট নথিতে আমার জন্য কী দায়িত্ব বা অঙ্গীকার রয়েছে, তা নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে বুঝে নেওয়াকেই আমি গুরুত্ব দিই।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময়ে অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে আরও সতর্ক থাকতে চাই। তবে আমার এই সতর্কতা কোনো
নির্দিষ্ট নীতির আইনি ব্যাখ্যা নয়। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো—প্রাসঙ্গিক নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে, যথাযথ পেশাগত পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
বাংলাদেশ কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সব মানুষকে অবিশ্বাস করা আমার উদ্দেশ্য নয়। পরিচিতজনের বিপদে সহায়তার হাত বাড়ানো অবশ্যই মূল্যবান। কিন্তু বন্ধুত্ব, আবেগ কিংবা মিষ্টি কথার ওপর নির্ভর করে এমন কোনো অঙ্গীকার করা উচিত নয়, যার পরিণতি নিজের কাছেই অস্পষ্ট।
আমার অভিজ্ঞতা থেকে পরামর্শ হলো, বিষয়টি সম্পূর্ণ না বুঝে কাউকে স্পনসর হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবেন না। নিজের বাসার ঠিকানা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আগেও উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করুন। কোনো নথি বুঝতে অসুবিধা হলে স্বাক্ষরের আগে নিজের আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
এখানে মূল কথা সতর্কতা, অবিশ্বাস নয়। মানবিকতার সঙ্গে বিবেচনাবোধের সমন্বয় থাকলেই অন্যকে সহায়তা করার পাশাপাশি নিজের স্বার্থ ও নিরাপত্তাও রক্ষা করা সম্ভব।