গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ভিক্টর রোমেরো (৬২)। বুধবার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশি তদন্ত ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির নাম কোরান আরভিন (৪৬)। তিনি নিউইয়র্কের ভ্যালি কটেজ এলাকার বাসিন্দা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কন এডিসনের কর্মী ছিলেন।
কী ঘটেছিল সেতুর ওপর?
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার পর নিউ জার্সিগামী জর্জ ওয়াশিংটন ব্রিজের ওপর এ ঘটনা ঘটে। দুটি গাড়ির মধ্যে সড়কে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, একপর্যায়ে অন্য একটি গাড়ি আরভিনের গাড়ির পাশে এসে গুলি চালায়। গুলিটি তাঁর শরীরে বিদ্ধ হলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর মাঝের বিভাজকের কাছে গিয়ে থামে। পরে তাঁকে নিউ জার্সির এনগলউড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত গাড়িচালক সেখান থেকে চলে যান। সেতুর নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে রোমেরোকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অবসরপ্রাপ্ত গোয়েন্দার অতীত
রোমেরো ২০০১ সালে এনওয়াইপিডি থেকে অবসর নেন। এর আগে ২০০০ সালে ব্রুকলিনে তাঁর পরিবারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডাকাতির সময় দায়িত্বের বাইরে থাকা অবস্থায় তিনি বন্দুকযুদ্ধে আহত হয়েছিলেন। সে ঘটনায় তিনি নিজের সার্ভিস অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন বলে তৎকালীন সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পরিবারে শোকের ছায়া
নিহত আরভিন স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে গেছেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ছিলেন পরিশ্রমী, হাসিখুশি এবং পরিবারের প্রতি নিবেদিত একজন মানুষ। তিনি কন এডিসনে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কন এডিসন এক বিবৃতিতে আরভিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
যান চলাচলে বিঘ্ন
গুলি চালানোর ঘটনার পর তদন্তের স্বার্থে জর্জ ওয়াশিংটন ব্রিজের কিছু লেন বন্ধ রাখা হয়। এতে ব্যস্ত সময়ে সেতু ও আশপাশের সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পরে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর বন্ধ লেনগুলো আবার খুলে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, সড়কে সামান্য বিরোধও কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। মামলাটির তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি।