একাধিক তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির কাছে সাতটি তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে অথবা সমুদ্রের মাইনে আঘাত পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব ঘটনার সব বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজ চলাচলের নিয়ম নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে পদক্ষেপ নিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান নির্দিষ্ট নৌপথ ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছে।
তেলের বাজারে অস্থিরতা
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
সিবিএস নিউজের ২৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা কতটা?
সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইরান মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন শর্তের কথা বলছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বের জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য ও সাধারণ ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।