প্রচ্ছদ » » ইলহান ওমরের বিয়ে নিয়ে পুরোনো বিতর্ক ফের আলোচনায়
ইলহান ওমরের বিয়ে নিয়ে পুরোনো বিতর্ক ফের আলোচনায়
- দৈনিক নবোদয় ডট কম
- আপডেট: Saturday, October 24, 2026 - 5:59 pm
- News Editor
- পঠিত হয়েছে: 28 বার
বিয়ের সনদ ও পারিবারিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমর ২০০৯ সালে এলমিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয় ২০১৭ সালে। সমালোচকদের অভিযোগ, এলমি ওমরের ভাই হতে পারেন এবং তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই বিয়ে করা হয়েছিল।
এ অভিযোগের পক্ষে সমালোচকেরা যুক্তরাজ্যের একটি বিয়ের সনদ, পারিবারিক নামের মিল এবং কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের কথা উল্লেখ করছেন। তবে এসব তথ্য থেকে তাঁদের মধ্যে জৈবিক ভাই-বোনের সম্পর্ক নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
করসংক্রান্ত নথি নিয়েও বিতর্ক
মিনিয়াপোলিসের স্টার ট্রিবিউন ২০১৯ সালে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানায়, ওমর ২০১৪ ও ২০১৫ সালে তাঁর তৎকালীন আইনগত স্বামী এলমির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে থাকা অবস্থায় অন্য সঙ্গী আহমেদ হিরসির সঙ্গে যৌথ কর রিটার্ন দাখিল করেছিলেন। পরে করসংক্রান্ত ওই অসংগতি সংশোধন করা হয়।
তবে কর রিটার্নে অসংগতি থাকা এবং ভাইকে বিয়ে করে অভিবাসন জালিয়াতি করার অভিযোগ এক বিষয় নয়। প্রথমটির তথ্য দিয়ে দ্বিতীয় অভিযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণিত হয় না।
‘ডার্টি ড্যান্ডি’ পরিচয় কেন আলোচনায়?
নিউ ইয়র্ক পোস্ট-এর প্রতিবেদনে এলমির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতি ‘ডার্টি ড্যান্ডি’ এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও শিক্ষাজীবনের কিছু তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর পরিচয় ও অতীত নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতি বা জীবনযাপনের তথ্য নিজেরাই কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়।
ইলহান ওমরের বক্তব্য
২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ওমরকে তাঁর সাবেক স্বামী তাঁর ভাই কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “Not to my knowledge” — অর্থাৎ, “আমার জানা মতে, না।” তাঁর মুখপাত্রও অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ওমর দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। অতীতে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও তথ্য যাচাইয়ের ফলাফলেও এলমি তাঁর জৈবিক ভাই—এমন দাবির পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপট
ওমরকে ঘিরে এই বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহু বছর ধরে চলে আসছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা বিষয়টি আবার সামনে এনেছেন। তবে রাজনৈতিক বক্তব্য, সন্দেহ এবং নথিতে থাকা অসংগতি—এসবের সঙ্গে আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রমাণিত অপরাধের পার্থক্য রয়েছে।
বর্তমানে প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওমর তাঁর ভাইকে বিয়ে করেছিলেন বা অভিবাসন জালিয়াতি করেছিলেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অপরিহার্য।








