নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) এক ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে নারী অধস্তন পুলিশ কর্মকর্তাকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি, অশালীন মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৩ বছর বয়সী পুলিশ কর্মকর্তা মারিয়া ডেলাক্রুজ অভিযোগ করেছেন, ক্যাপ্টেন আমানজিত সান্ধু ২০২৩ সাল থেকে তাঁর প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণ শুরু করেন। ওই সময় সান্ধু এনওয়াইপিডির ট্রানজিট ডিস্ট্রিক্ট-১-এর দায়িত্বে ছিলেন।
শরীর নিয়ে অশালীন মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সান্ধু বারবার ডেলাক্রুজের শরীর নিয়ে অশালীন মন্তব্য করতেন, যৌন বিষয়ক কথাবার্তা বলতেন এবং তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করতেন। একপর্যায়ে তিনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁকে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৩ সালের একটি বড়দিনের অনুষ্ঠানে ক্যাপ্টেন তাঁকে সঙ্গে নিয়ে চলে যাওয়া এবং যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দিয়েছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ডেলাক্রুজ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
বদলির পরও বার্তা পাঠানোর অভিযোগ
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে কর্মস্থল পরিবর্তনের পরও সান্ধু তাঁকে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা, অশ্লীল ভিডিও এবং ব্যক্তিগত যৌনজীবন নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন পাঠাতেন।
ডেলাক্রুজের অভিযোগ, এসব ঘটনার কারণে কর্মক্ষেত্রে তাঁর প্রতি বিরূপ আচরণ তৈরি হয়। সহকর্মীদের মধ্যে তাঁর সঙ্গে ক্যাপ্টেনের সম্পর্ক নিয়ে গুজব ছড়ানোর ঘটনাও তাঁকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
মামলায় এনওয়াইপিডির ডেপুটি চিফ স্টিভেন মরিয়েলোর বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। ডেলাক্রুজের দাবি, কর্মক্ষেত্রে একটি বিরোধের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তের সময় তাঁকে যৌন হয়রানির অভিযোগ সীমিত রাখতে বলা হয়েছিল এবং অন্যত্র বদলির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
মামলায় ক্যাপ্টেন সান্ধু, ডেপুটি চিফ মরিয়েলো, পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বিবাদী করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে নির্দিষ্ট অঙ্ক উল্লেখ না করে আদালতের কাছে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।
এনওয়াইপিডির বক্তব্য
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনওয়াইপিডির একজন মুখপাত্র বলেছেন, বিভাগটি তখনও মামলার আনুষ্ঠানিক নোটিশ পায়নি। নোটিশ পাওয়ার পর এ বিষয়ে জবাব দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে। আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।