যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (Midterm Elections) বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি মার্কিন রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
গভর্নর পদে প্রার্থিতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রার্থীদের অবস্থান এবারের নির্বাচনে ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
একাধিক অঙ্গরাজ্যে প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা
বিশেষ করে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে।
মিনেসোটা: ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার ও রিপাবলিকান লিসা ডেমুথ গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিজয়ী হবেন রাজ্যটির ইতিহাসে প্রথম নারী গভর্নর।
টেনেসি: রিপাবলিকান সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন ও ডেমোক্র্যাট জেরি গ্রিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিজয়ী হবেন টেনেসির প্রথম নারী গভর্নর।
জর্জিয়া: ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস নির্বাচিত হলে তিনি হবেন রাজ্যটির প্রথম নারী গভর্নর এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর।
ওহাইও: ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাক্টন নির্বাচিত হলে তিনি হবেন রাজ্যটির প্রথম নির্বাচিত নারী গভর্নর।
ভারমন্ট: ডেমোক্র্যাট আমান্ডা জানু নির্বাচিত হলে তিনি হবেন রাজ্যটির প্রথম ডেমোক্র্যাটিক এশীয়-আমেরিকান নারী গভর্নর।
রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের Center for American Women and Politics-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনে গভর্নর পদে প্রধান দুই দলের মনোনয়ন পাওয়া নারী প্রার্থীর সংখ্যা ২৬। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ১৪টিতে নারী গভর্নর দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, ১৭টি অঙ্গরাজ্যে এখনো কোনো নারী গভর্নর হননি।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনেও নারী নেতৃত্বের গুরুত্ব
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বর্তমান গভর্নর ক্যাথি হোকুল (Kathy Hochul) ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে ২০২৬ সালের গভর্নর নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী নাসাউ কাউন্টির নির্বাহী ব্রুস ব্লেকম্যান (Bruce Blakeman)।
ক্যাথি হোকুল নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম নারী গভর্নর। ২০২১ সালে তৎকালীন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো পদত্যাগ করলে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তী ২০২২ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি পূর্ণ মেয়াদে গভর্নর নির্বাচিত হন।
২০২৬ সালের নির্বাচনেও তাঁর প্রার্থিতা নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। নারী নেতৃত্ব, অর্থনীতি, আবাসন, জননিরাপত্তা ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয় নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের নতুন অধ্যায়
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নারীদের নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। গভর্নর পদে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ শুধু নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বরং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসেও নতুন পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটারদের রায়েই নির্ধারিত হবে এই প্রার্থীদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।