ঢাকা | নভেম্বর ১, ২০২৬ - ৭:২৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ে বড় ধস, জরুরি খরচ মেটানোর সামর্থ্য নেই ৫৩ শতাংশ মার্কিনির

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, November 1, 2026 - 12:54 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 16 বার
প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র) যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের হার কমে প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়িভাড়া, খাদ্যপণ্যের মূল্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের চাপে আর্থিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দেশটির বিপুলসংখ্যক মানুষ।

এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৩ শতাংশ নাগরিকের কাছে অন্তত তিন মাসের জরুরি খরচ মেটানোর মতো পর্যাপ্ত সঞ্চয় নেই। অর্থাৎ চাকরি হারানো, অসুস্থতা কিংবা হঠাৎ কোনো আর্থিক বিপর্যয় দেখা দিলে এসব মানুষের পক্ষে নিজেদের সংসার চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

জরিপের আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ২৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক নিয়মিত মাসিক বিল পরিশোধ করতেও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিদ্যুৎ, গ্যাস, বাড়িভাড়া, গাড়ির কিস্তি, বিমা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে অনেক পরিবারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, কমছে সঞ্চয়ের সুযোগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারা ব্যক্তিগত সঞ্চয় কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। অনেক পরিবার মাসের আয় দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর পর সঞ্চয়ের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ হাতে রাখতে পারছে না।

বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বেশি চাপে রয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের ঋণ, উচ্চ সুদের হার এবং বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকের আর্থিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

ব্যক্তিগত সঞ্চয় শুধু ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নয়, বরং যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। তিন মাসের জরুরি খরচের সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয় না থাকলে একটি চাকরি হারানো কিংবা বড় ধরনের চিকিৎসা ব্যয় একটি পরিবারকে ঋণের বোঝায় ফেলে দিতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আয় বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রেও যখন লাখ লাখ পরিবার মাসিক বিল পরিশোধ এবং জরুরি সঞ্চয় ধরে রাখতে সমস্যায় পড়ছে, তখন বিষয়টি দেশটির সাধারণ মানুষের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে।