নিবন্ধে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। মারিস্টের এক জরিপের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাজ্যের প্রায় অর্ধেক সম্ভাব্য ভোটার মনে করেন, এক বছর আগের তুলনায় তাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়েছে। বিপরীতে মাত্র ১৩ শতাংশ ভোটার নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন।
নিবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির এক জরিপে নিউইয়র্কের ৮৬ শতাংশ বাসিন্দা মনে করেন, সাধারণ পরিবারের জন্য রাজ্যে বসবাস ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
উচ্চ কর ও সরকারি ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন
নিউইয়র্ক পোস্টের নিবন্ধে রাজ্যের উচ্চ করের বোঝা, আবাসন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় এবং গণপরিবহন ও জননিরাপত্তার মতো সরকারি সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সরকারি ব্যয় বেড়ে রেকর্ড ২৬৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আগামী বাজেটে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতির আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
গভর্নর ক্যাথি হোকলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিবন্ধে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির কিছু নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নে অর্থায়নের জন্য নতুন কর আরোপের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তবে এসব বক্তব্য পত্রিকাটির সম্পাদকীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও সমালোচনামূলক মূল্যায়নের অংশ।
ব্রুস ব্লেকম্যানের নির্বাচনী সম্ভাবনা
নিউইয়র্কের রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যানকে বর্তমান গভর্নর ক্যাথি হোকলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, রাজ্যের অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ কর এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যাগত সুবিধা এবং নির্বাচনী তহবিলে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও ব্লেকম্যানের সামনে জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারণায় হোকল ও ব্লেকম্যান উভয়েই জীবনযাত্রার ব্যয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে বক্তব্য দিচ্ছেন।
ভোটারদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
নিউইয়র্ক পোস্টের নিবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার জন্য দায়ী নেতৃত্বকে ভোটাররা কতটা চিহ্নিত করতে পারবেন, সেটিই আগামী নির্বাচনের অন্যতম বড় পরীক্ষা।
৩ নভেম্বরের নির্বাচন শুধু গভর্নর নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, করনীতি, জনসেবা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ৩১ অক্টোবর ২০২৬। নিবন্ধটি একটি মতামতধর্মী রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।