ঢাকা | নভেম্বর ১, ২০২৬ - ৭:২৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

মান্দায় সার সংকটের আড়ালে অতিরিক্ত দামের বাণিজ্য, নীরব প্রশাসন

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, November 1, 2026 - 12:37 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 4 বার
নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মান্দা উপজেলায় সার সংকটকে পুঁজি করে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্ধারিত ১ হাজার ৫০ টাকার এক বস্তা সার কৃষকদের কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা। বিশেষ করে উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের সাবাই বাজারে খুচরা সার
ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে কৃষকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার পয়েন্টে গিয়ে সরকারি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ এসব খুচরা ব্যবসায়ীর দোকান ও গুদামঘর বস্তায় বস্তায় সারে ভর্তি।কৃষকরা যখন বিভিন্ন দোকানে ঘুরেও সার পাচ্ছেন না, তখন বেশি দাম দিতে রাজি হলেই মিলছে সার। প্রতি বস্তা সার কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। নিরুপায় হয়ে ফসল উৎপাদনের স্বার্থে অতিরিক্ত দাম দিয়েই সার কিনছেন তারা।কৃষকদের ভাষ্য, ফসলের মৌসুম শুরুর আগেই জমি প্রস্তুত ও চাষাবাদের জন্য সার প্রয়োজন।মৌসুম পার হয়ে গেলে সার কিনে কোনো লাভ
নেই।
তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, ডিলারদের কাছে সার না থাকলেও খুচরা ব্যবসায়ীদের দোকান ও গুদামে এত সার আসছে কোথা থেকে?স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছু অসাধু ডিলার রাতের আঁধারে ডিলার পয়েন্ট থেকে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। পরে খুচরা ব্যবসায়ীরা সেই সার কৃষকদের কাছে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বিভিন্ন স্থান থেকে অটোগাড়িতে করে সার সাবাই বাজারে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এ সময় অবৈধভাবে সার পরিবহনের অভিযোগে একটি গাড়ি থেকে ২০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। তবে পরে খুচরা সার ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সদস্যদের চাপের মুখে জব্দ করা সার ছেড়ে দিতে বাধ্য হন বলে স্থানীয়রা জানান।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে বারবার বিষয়টি অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে সাবাই বাজারে প্রকাশ্যেই অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির কার্যক্রম চলছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কৃষক ও সচেতন মহল।
তেঁতুলিয়া গ্রামের কৃষক মাহাবুর বলেন, ‘কোথাও গেলে সার পাওয়া যায় না। অথচ বেশি টাকা দিলেই এসব দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি দাম যেখানে ১ হাজার ৫০ টাকা, সেখানে আমাদের ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে কেন? বাজারে প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। এত বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে, তাহলে প্রশাসন কী করছে?’
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিল নওরোজ বৈশাখকে সার জব্দ এবং সাবাই বাজারে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে জানানো হলে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসাঃ আতিয়া খাতুনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও প্রথমে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে বিকেলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে অবগত ছিলাম না। এই মুহূর্তে জানলাম, বিষয়টি দেখছি।’
কৃষকদের দাবি, সার সংকটের সুযোগ নিয়ে যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছেন, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।#