# গল্প #পাখির বাসা ও নারীর ভাষা
#শরীফ শামিল
শৈশব- বাল্যকালটা কেটেছিল আমার নানা বাড়িতে।তখন সবার বাড়ির ভেতর- বাইরে গলি- পুস্তাতে, বিভিন্ন কিসিমের গাছ গাছালি থাকতো। আর ওগুলোতে বিভিন্ন জাতের পাখ পাখালি বাসা বাঁধতো।
আমি তখন নিষ্ঠুর এক মজা উপভোগ করতাম, পাখিদের বাসা ভেঙ্গে ভেঙ্গে!
প্রতিবেশী এক দিদি ছিলেন- নামটা তাঁর প্রভাতী। তিনি বয়সে- আমার চেয়ে ১১/১২ বছরের বড় ছিলেন।
একদিন একটা ডিমওয়ালা পাখির বাসা ভেঙে উল্লাস প্রকাশ করছিলাম খুব! হঠাৎ দেখি, প্রভাতী দিদি তেড়ে মেড়ে আসেন আমার দিকে।
– ওই ছোঁড়া, তুই খালি, হালি হালি পাখির বাসা ভাইঙ্গা বেড়াস কেনে?
প্রভাতী দিদির ক্রোধাম্বিত দৃষ্টি দেখে ভয় পেয়ে যাই আমি। তিনি যে আমার এই অপকর্ম পাপকর্ম গুলোকে পর্যবেক্ষণ করতেন– খেয়ালই করিনি কোনোদিন। আমি কাঁদো কাঁদো গলায়, জানতে চেয়েছিলাম, কেনে জি দিদি, পাখির বাসা ভাঙলে কী হয়?
বেওয়ারিশ পাখিদের বাসা ভাঙায় কোনও অপরাধ নাই, এটাই জানতাম তখন।
প্রভাতী দিদি র দ্বিতীয় প্রশ্নটা ছিলো, পাখির বাসা র মানে জানিস তুই? উত্তর দিতে না পারায়, একটা ভয় ও লজ্জা মিশ্রিত দৃষ্টিতে দিদির দিকে তাকাই আমি।
– পাখির বাসা মানে হচ্ছে–‘ ভালবাসা’। আর তুই এই ভালবাসাকে ভাইঙ্গা বেড়াচ্ছিস বদমাশ কোথাকার!?
সেদিন প্রভাতী দিদির কণ্ঠে শুধু ভর্ৎসনাই ছিল না- একটা অভিশম্পাতও ছিল যেন।
হঠাৎ করে ওই ঘটনাটা মনে পড়তে লাগল আমার। আর রাতে স্বপ্ন দেখলাম: আবার একজোড়া পাখির বাসা ভেঙ্গেছি আমি! প্রভাতী দিদি উচ্চকণ্ঠে( আমাকে) অভিশম্পাত করছেন, তোর কপালে অশেষ দুঃখ আছেরে। তুই কোনোদিন নারীর ভালবাসা পাবি না।
স্বপ্ন ভেঙে যাবার পরও আমার বুক ধড়াস ধড়াস করতে থাকে। তৎক্ষণাৎ মনেও পড়ে: সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে, কীভাবে দূরে সরে গেছিল আমার পরমা প্রিয়া!
কাঁচকলা ও কাঁচাকলা শব্দ দুটি আমার মস্তিষ্কে ঘা মারতে থাকল..
[ সত্য ঘটনা এ গল্পটি। আমি আর কখনোই সত্য গল্প- কথা সত্য স্বপ্ন -কথা বলব না, লিখব না। সত্য কথায় সমস্যা তৈরি হয় – হয়েছে।]








