ঢাকা | মার্চ ১২, ২০২৬ - ৫:০৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

কেরানীগঞ্জে ইজিবাইক চালককে জবাই করে হত্যা, গ্রেফতার ৪ জন

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, May 21, 2023 - 2:30 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 81 বার

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধিঃঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার মঠবাড়ী এলাকায় মদ পার্টির টাকা জোগাতে ইজিবাইকচালক শাকিলকে (১৭) হত্যা করেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। গত শনিবার রাতে হত্যায় জড়িত চারজনকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ।গ্রেফতারকৃতরা হলেন, জনি (২০), শারাফাত (২০), ইব্রাহিম চান (২১), সাব্বির হোসেন মেহেদী (২২)।

আজ রোববার দুপুরে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গত শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে স্থানীয়রা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় খরব দেন মঠবাড়ী এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ইটের খোলার ভেতরে একটি গলাকাটা লাশ পড়ে আছে। তখন পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। মৃতদেহটি একই ইউনিয়নের জাজিরা গ্রামের মৃত সিদ্দিক মিয়ার ছেলে শাকিল। মরদেহ শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা পুলিশকে জানায়, শাকিল দশম শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা ছোটবেলায় মারা যান। অসুস্থ মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে থাকত সে। নিজের পড়াশোনা, মায়ের চিকিৎসা ও সংসারের খরচ মেটাতে শাকিল স্কুল শেষে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ইজিবাইক চালাত। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ইজিবাইক নিয়ে বের হলেও রাতে আর বাসায় ফেরেনি।

এ ঘটনায় শাকিলের বড় বোন সীমা (২৪) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, হত্যায় জড়িতরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং সবাই মাদকাসক্ত। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানান গত বৃহস্পতিবার তাঁরা পরিকল্পনা করেন একটা ইজিবাইক ছিনতাই করবেন। এরপর সেটির ব্যাটারি বিক্রির টাকা দিয়ে মদের পার্টি করবেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সেদিন সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার ইব্রাহিম চানের সিএনজি নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কাউটাইল ঘাটে ইজিবাইকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। সেখানে কোনো ইজিবাইক না পেয়ে শরাফত ও জনি কাটাইল ঘাট এলাকা থেকে সামনে এগিয়ে গিয়ে শাকিলকে পান। শাকিল জনির পূর্বপরিচিত হওয়ায় সহজেই শাকিলকে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া সহজ হয়। পরে জনি, শারাফাত ও সাব্বির গাড়ি নিয়ে মঠবাড়ী পরিত্যক্ত ইটখোলায় যান।

গ্রেফতার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা পুলিশকে আরও জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোমাত্রই পরিকল্পনা অনুযায়ী শারাফাত সুযোগ বুঝে সুইসগিয়ার দিয়ে শাকিলের গলায় টান দেন। এতে শাকিল ইজিবাইক থেকে পড়ে যায় এবং গলা চেপে ধরে চিৎকার শুরু করে।

তখন জানি পেছন থেকে শাকিলের পিঠে এলোপাতাড়ি চাকু মারতে থাকেন। কিন্তু তার পরও শাকিল চিৎকার ও দাপাদাপি করতে থাকায় জনি, সাব্বির ও ইব্রাহিম চান শাকিলের মাথা ও হাত-পা চেপে ধরেন এবং শরাফাত শাকিলকে সুইসগিয়ার দিয়ে মাথার সামনে-পেছনে জবাই করে মাথা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর শরাফত, জনি ও ইব্রাহিম চান সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চলে যান। আর সাব্বির নিহত শাকিলের ইজিবাইক নিয়ে চলে যান।