মির্জাপুরে যুবলীগ নেতা ও হাট ইজারাদারের সজিব খান প্রধান গ্রেপ্তার
স্ট্যাফ রিপোর্টারঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ডেবিল হান্ট অপারেশনে যুবলীগ নেতা ও হাঁট ইজারাদারের সজিব খান প্রধান (৩৭) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার বিকাল সারে ৪ টার দিকে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পোষ্টকামুরী জহুরবাড়ি মোড়ে সামছুদ্দিনের দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার টাঙ্গাইলে আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠান। সজিব খান প্রধান মির্জাপুর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের পোষ্টকামুরী চরপাড়া গ্রামের মান্নান খানের ছেলে বলে জানা গেছ। সে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য।
পুলিশ জানায়, গত ৪ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের ছুরা গুলিতে গোড়াই ইউনিয়নের লালবাড়ি গ্রামের হিমেলের দু চোখ অন্ধ হয়। এ ঘটনার পর হিমেলের মা নাছিমা বেগম টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জাপুর আমলি আদালতে পুলিশ, সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১০০ জনের নাম উল্লেখ এবং ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন।
ওই মামলার অজ্ঞতনামা আসামি হিসেবে সজিব খান প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও মির্জাপুর বাজারের হাঁট ইজারাদারের একাউন্টের দায়িত্বে আছেন এবং নিজের নাম খান প্রধান উপাধি নেয়।
সেই সুবাদে হাঁট ইজারাদাের প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ দোকানদারদের কাছ থেকে মোটা অংকের বাৎসরিক চাঁদা তোলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক কাঁচামাল ও মুদি দোকানদার এবং মুরগী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ দেন প্রশাসনের কাছে। খাজনা ছাড়া মোটা অংকের বাড়তি টাকা আদায় করা সরকারি নীতিমালা ও সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, হাঁট ইজারায় নেই এটি আইনের বহির্ভূত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কাঁচামাল ও মুরগী ব্যবসায়ীরা বলেন, আমাদের উপর যা করে তা নিতান্তই জুলুম, আমাদের কিছু করার নেই প্রশাসন কি দেখা না এদেরকে, কে করবে এদের বিচার বলে মন্তব্য করেন? জানাযায়, ডেবিল হান্ট অপারেশনে এখন পর্যন্ত এই উপজেলা থেকে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, হিমেলের মায়ের করা মামলার তদন্তে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য সজিব খান প্রধানের নাম পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান। সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।








