কেরানীগঞ্জে ব্যাংক থেকে ১৫ লাখ টাকা চুরি, নাইটগার্ডসহ আটক ৩
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)প্রতিনিধি:ঢাকার কেরানীগঞ্জে আইএফআইসি ব্যাংকের একটি উপশাখা থেকে ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকটির নাইটগার্ডসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতরা হচ্ছে ব্যাংকের নাইট গার্ড মোঃ সিয়াম (২১),আল আমিন(২৫) ও মোঃ ইমরান (২৬)।
আজ বুধবার দুপুর ১২টায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল হক ডাবলু এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এতথ্যটি জানান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (০৯ জুন) রাতে রোহিতপুর বোর্ডিং মোড় এলাকার ইস্পাহানি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ব্যাংকটির ভল্ট ভেঙে ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ একটি চক্র।
চুরির ঘটনার পরপরই ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তিনজনকে আটক করে। চুরি হওয়া সম্পূর্ণ অর্থ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চুরির ঘটনার তদন্তে নেমে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড মো. সিয়াম কে গ্রেপ্তার করে। পরে তার কেরানীগঞ্জের বন্দ ডাকপাড়া এলাকার বাসা থেকে ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। সিয়ামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অভিযানে পুলিশ কেরানীগঞ্জ মডেল টাউন এলাকা থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে এবং তার বাসা থেকে আরও ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করে।
অপর অভিযানে মাদারীপুর সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তৃতীয় আসামি ইমরানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। চুরি হওয়া মোট ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে পুলিশ ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। বাকি ১০ হাজার টাকা চুরচক্রটি বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত খরচ করেছেন। এছাড়াও উদ্ধার করা হয়েছে একটি হার্ডডিস্ক, চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি চাকু ও একটি শাবল।
ওসি মোহাম্মদ মনিরুল হক ডাবলু জানান,ঈদের ছুটির কারণে ব্যাংকটি বন্ধ ছিল। এই সুযোগে পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকের পেছনের দেয়ালে থাকা ওয়াশরুমের অ্যাডজাস্ট ফ্যান ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে সিসিটিভি ক্যামেরার তার কেটে সিস্টেম অকার্যকর করে ফেলে। পরে ভল্ট ভেঙে নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, সন্দেহভাজন হিসেবে প্রথমেই নজরে আসেন নাইট গার্ড মো. সিয়াম। শুরুতে তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ব্যাংকের বাইরে ছিলেন এবং অজ্ঞাত কেউ ভেতরে ঢুকে চুরি করে। তবে তার বক্তব্যে অসংগতি পাওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং একপর্যায়ে তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।








