ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

দীর্ঘ নির্বাসনের আঁধার পেরিয়ে, স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে ফিরছেন তারেক রহমান

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, December 1, 2025 - 12:35 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 174 বার

মোঃ জুমান হোসেন :সতেরোটি দীর্ঘ, যন্ত্রণাদায়ক বছর। সতেরো বছর একজন সন্তান তার মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন। সতেরো বছর একজন নেতাকে তার জনগণের থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে, লন্ডনের মাটি থেকে, একটি ক্ষুদ্র ভিডিও স্ক্রিনের মাধ্যমে তার দলকে পরিচালনা করতে হয়েছে।

এটি শুধু একটি রাজনৈতিক গল্প নয়। এটি একটি মানবিক গল্প। এটি ধৈর্য, বেদনা এবং একটি অটুট প্রতিশ্রুতির গল্প।

এখন, সেই গল্পটি অবশেষে তার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত অধ্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরছেন।

২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর যে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, তা এখন আত্মবিশ্বাসী কোরাসে পরিণত হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সেই খবরটিই নিশ্চিত করেছেন, যার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রার্থনা করছিলেন: “তিনি (তারেক রহমান) শীঘ্রই আসছেন, এবং প্রস্তুতি চলছে।”

দলের অগণিত কর্মী, যারা বছরের পর বছর ধরে সীমাহীন কষ্ট সহ্য করেছেন, তাদের জন্য এটি সেই সংবাদ যার জন্য তারা অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ রাতের অন্ধকার যেন শেষ হতে চলেছে। তাদের নেতা দেশে ফিরছেন।

অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ এক নেতা

আগামীকালের বাংলাদেশকে বুঝতে হলে, আমাদের এই মানুষটির যাত্রাকে বুঝতে হবে। প্রায় দুই দশক ধরে, তার নামটি ছিল এক ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দুতে। পূর্ববর্তী সরকার তাকে খলনায়ক হিসেবে চিত্রিত করে মামলার পাহাড়ের নিচে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

কিন্তু তার সমর্থকরা একটি সহজ প্রশ্ন করেন: কেন তাকে এত হিংস্রভাবে টার্গেট করা হয়েছিল?

তারা বিশ্বাস করে, এর কারণ হলো তিনি, তার পিতা মহান রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের মতোই, সর্বদা সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তারা বিশ্বাস করে, পুরোনো, দুর্নীতিগ্রস্ত শক্তিগুলো তৃণমূলের সাথে তার গভীর সংযোগকে ভয় পেত।

লন্ডনে বসে তারেক রহমান একটি অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। তিনি শুধু বিএনপিকে বাঁচিয়েই রাখেননি; তিনি গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে দলটিকে পুনর্গঠন করেছেন।

একবার ভাবুন। বরিশালের এক প্রত্যন্ত গ্রামের একজন সাধারণ কর্মী, যখন নিজেকে নির্যাতিত এবং দিশেহারা মনে করছিলেন, হঠাৎ তিনি একটি ভিডিও কল পেলেন। স্ক্রিনের ওপাশে তার নেতা, তারেক রহমান, তার পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন, তার সমস্যার কথা শুনছেন এবং তাকে সাহস জোগাচ্ছেন। এটি কোনো কাল্পনিক গল্প নয়; এভাবেই তিনি দল পরিচালনা করেছেন। তিনি হাজারো কর্মীর সাথে সরাসরি কথা বলেছেন, পুরোনো বলয় ডিঙিয়ে, এবং এমন এক অনুগত বাহিনী তৈরি করেছেন যারা তার মধ্যে একজন প্রকৃত দরদী নেতাকে খুঁজে পেয়েছে।

তিনি তার নির্বাসনকে দুর্বলতা থেকে তার সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত করেছেন।

নতুন বাংলাদেশের জন্য এক নতুন স্বপ্ন

যে তারেক রহমান ফিরে আসছেন, তিনি সেই মানুষটি নন যিনি দেশ ছেড়েছিলেন। তিনি এমন একজন নেতা যিনি ১৭ বছর ধরে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, পরিকল্পনা করেছেন।

তিনি কোনো ফাঁকা স্লোগান নিয়ে আসছেন না। তিনি আসছেন ৩১-দফা পরিকল্পনা নিয়ে। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক ইশতেহার নয়; এটি একটি জাতির পুনর্জন্মের প্রতিশ্রুতি।

তার এই পরিকল্পনা একটি সুন্দর নতুন ধারণার পরিচয় করিয়ে দেয়: “রংধনু জাতি” (Rainbow Nation)।

কী এই “রংধনু জাতি”? এটি দেশকে সারিয়ে তোলার প্রতিশ্রুতি। এটি প্রতিশোধের রাজনীতির অবসানের প্রতিশ্রুতি। এটি এমন এক অঙ্গীকার যেখানে প্রতিটি মানুষ—হোক সে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ বা যেকোনো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর—সকলের সমান অধিকার এবং সমান মর্যাদা থাকবে। এটি এমন একটি স্বপ্ন যেখানে বাংলাদেশের সকল রঙের মানুষ শান্তিতে একসাথে বাস করতে পারবে।

তিনি আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবছেন। তার নতুন “সবুজ রূপকল্প” (Green Vision) হলো ২৫ কোটি গাছ লাগানোর এবং আমাদের মৃতপ্রায় নদীগুলোকে বাঁচাতে বিশাল প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা। তিনি পরবর্তী প্রজন্মকে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য বিশুদ্ধ বাতাস এবং পানের জন্য বিশুদ্ধ পানি উপহার দিতে চান।

সম্প্রতি তিনি যেমনটি বলেছেন, তিনি বিএনপিকে “সেবা, ন্যায়বিচার এবং দক্ষতার প্রতীক” হিসেবে দেখতে চান; “বিভাজন বা বিশেষ সুবিধার প্রতীক” হিসেবে নয়।

জনগণের রায়ে উন্মুক্ত পথ

তার ফেরার পথ তৈরি করেছে এদেশের জনগণ। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের অভ্যুত্থান শুধু একটি প্রতিবাদ ছিল না; এটি ছিল আশার এক বিপ্লব। জনগণ অন্যায়ের দেয়াল ভেঙে দিয়েছে এবং প্রকৃত গণতন্ত্রের দরজা খুলে দিয়েছে।

এই যুগান্তকারী পরিবর্তনের পর, আদালত অবশেষে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছে। কালো মেঘ সরে গেছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা থেকে শুরু করে দুর্নীতির অভিযোগ—তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” মামলা একে একে খারিজ হয়ে গেছে। বিচার বিভাগ সেটাই নিশ্চিত করেছে যা তার সমর্থকরা সবসময় জানত: তিনি নির্দোষ।

তিনি পলাতক হিসেবে ফিরছেন না। তিনি একজন ন্যায়সঙ্গত নেতা হিসেবে ফিরে আসছেন, যিনি আইনের দ্বারা নিষ্কলুষ প্রমাণিত এবং জনগণের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশে ফিরছেন।

ভাগ্যের সাথে এক সাক্ষাৎ

ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন ফেব্রুয়ারী ২০২৬ সালের নির্বাচনের মঞ্চ প্রস্তুত করছে, তখন তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন সবকিছু বদলে দিচ্ছে।এটি আর শুধু একটি নির্বাচন নয়। এটি ভাগ্যের সাথে একটি সাক্ষাৎ।

সমালোচকদের কাছে তিনি হয়তো অতীতের একজন। কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষ যারা তার জন্য অপেক্ষা করেছে, তাদের কাছে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি এই ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে মেরামত করতে পারেন। তিনিই একমাত্র নেতা যিনি ঝড়ের মধ্যে টিকে থাকার শক্তি এবং একটি নতুন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন।

দেশের তরুণদের কাছে তার সাম্প্রতিক বার্তাই প্রমাণ করে যে, তিনি ভবিষ্যৎ নিয়েই ভাবছেন। তিনি বলেছেন, “তরুণরা আসল সুযোগ চায়, তারা ফাঁকা বুলি চায় না। মানুষ স্থিতিশীলতা চায়, বিশৃঙ্খলা নয়।” শিগগিরই বিমানবন্দর জনসমুদ্রে পরিণত হবে। রাজপথ পূর্ণ হয়ে যাবে।