ঢাকা | মার্চ ১১, ২০২৬ - ১:১৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

তানোরে কিশোরী অপহরণ গ্রাম্য সালিশে রফাদফা,প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা 

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, January 12, 2026 - 9:56 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 86 বার

সোহানুল হক পারভেজ রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান: রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের চকপাড়া এলাকায় এক প্রবাসীর সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া ১৩ বছর বয়সী কিশোরী কন্যা অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কলমা ইউনিয়নের অমৃতপুর গ্রামের লিটনের ছেলে ও বনকেশর ব্রীজঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিপুল (১৮) ওই কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিপুল দীর্ঘদিন ধরে কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে সাড়া না পেয়ে বিভিন্ন সময় পথে-ঘাটে তাকে উত্যক্ত করত। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গত ৫ জানুয়ারি সকালে জনৈক শফিকুল ওরফে বাদলের সহযোগিতায় বিপুল কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ জানুয়ারি উপজেলার সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা আব্দুর রহিম মোল্লার উদ্যোগে কামারগাঁ ইউনিয়নের শ্রীখন্ডা গ্রামে তার বাসভবনে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের কাছ থেকে মামলা না করার মুচলেকা নিয়ে কিশোরী ও অভিযুক্ত যুবককে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ কি গ্রাম্য সালিশে মীমাংসাযোগ্য? তিন দিন কিশোরী অভিযুক্তের সঙ্গে থাকার দায়ভারই বা কার?নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিশোরীর এক স্বজন বলেন, তারা পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন এবং সালিশের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শানীনুজ্জামান জানান, অপহরণের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন, এটি আনুষ্ঠানিক সালিশ নয়, দুই শিশুর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে উভয় পরিবারের সম্মতিতে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী সহকারী জজ আদালতের এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, অপহরণ বা অপহরণের চেষ্টা আপোষযোগ্য অপরাধ নয়। এ ধরনের ঘটনায় অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, নতুবা সমাজে অপরাধের প্রবণতা আরও বাড়বে। এদিকে পুলিশ জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে  খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।