ঢাকা | মার্চ ১১, ২০২৬ - ৮:৩৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ঐতিহ্যের পাঁচশ বছর পার : বাঘার ঈদ মেলা ইতিহাসের কথা বলে

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, March 11, 2026 - 1:30 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 10 বার

সাজ্জাদ মাহমুদ সুইট, রাজশাহী:আকাশে শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ উঁকি দেওয়ার পর থেকেই রাজশাহীর বাঘার বাতাসে যেন অন্যরকম এক সুবাস বয়তে শুরু করে । শুধু নামাজ নয়, এই জনপদে ঈদ মানেই ৫০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক— ‘বাঘার ঈদ মেলা’। ঈদের দিন নামাজের পর হতেই বাঘার ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ সংলগ্ন চত্বর পরিণত হয় এক বিশাল উৎসবের মোহনায়।

জানা যায়, ১৫২৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান নাসিরউদ্দিন নসরত শাহের আমলে প্রতিষ্ঠিত এই শাহী মসজিদকে ঘিরেই মেলার সূচনা।

প্রবীণদের মতে, আগে এই মেলা মাসব্যাপী চললেও এখন তা ১৪/১৫ দিন স্থায়ী হয়। তবে সময়ের আধুনিকতা এই মেলার আদি রূপকে ফিকে করতে পারেনি। মাটির সানকি থেকে শুরু করে কাঠের আসবাবপত্র সবখানেই যেন মিশে আছে আদি বাংলার ঘ্রাণ।

মেলার মূল আকর্ষণে থাকে বৈচিত্র্যময় সব আয়োজন। যেমন, কারুপণ্যের পসরা: দূর-দূরান্ত থেকে আসা কারিগররা সাজিয়েছেন তাদের মাটির পুতুল, পোড়ামাটির তৈজসপত্র এবং বাঁশ-বেতের শৌখিন সামগ্রী। স্বাদের রাজত্ব: মেলার বড় আকর্ষণ বাঘার বিশেষ ‘জিলাপি’ এবং স্থানীয় মিষ্টি। গরম জিলাপির মচমচে ঘ্রাণে মেলার বাতাস ম-ম করছে। বিনোদনের ডালি: শিশুদের জন্য নাগরদোলা, সার্কাস এবং বায়োস্কোপের আয়োজন মেলা প্রাঙ্গণকে করেছে আরও প্রাণবন্ত।

সাজেদুর রহমান (৬২) নামের এক ব্যক্তি বলেন, “আমরা বাপ-দাদার আমল থেকেই এই মেলা দেখে আসি। এটা শুধু কেনাবেচার জায়গা না, এটা আমাদের শেকড়ের সাথে মেশার একটা দিন।”

বাঘার এই মেলার বিশেষত্ব হলো এর সর্বজনীনতা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পুরো রাজশাহী অঞ্চল তো বটেই, পাশের নাটোর ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও হাজারো মানুষ ভিড় করেন এখানে। মসজিদ চত্বরের সুশীতল ছায়া আর সুবিশাল দীঘির পাড়ে বসে আড্ডা দেওয়া যেন এখানকার ঈদের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এদিকে মেলার ভিড় সামলাতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বাঘার এই ঈদ মেলা শুধু একটি মেলা নয়, এটি উত্তরের জনপদের এক জীবন্ত ইতিহাস। আধুনিক শপিং মলের চাকচিক্যের ভিড়েও বাঘার এই মাটির মেলা আজও টিকে আছে মানুষের হৃদয়ে।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর বাঘার এই মেলা ইজারা দেওয়ার জন্য উন্মুক্ত ডাকের আয়োজন করে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও মাজার কমিটি। এবারে উন্মুক্ত ডাকে অংশগ্রহণের জন্য ৭৫ জন বিডি জমা প্রদান করেছিলেন। বাঘা উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফি ১২৭০০০০ হাজার টাকা সর্বোচ্চ ডাক দিয়ে মেলাটি ইজারা নিয়েছেন।