ঢাকা | মে ৯, ২০২৬ - ৭:৫৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

গুমাই বিলে ধান কাটা শুরু: শ্রমিক সংকট ও চড়া মজুরিতে দিশেহারা কৃষক

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Saturday, May 9, 2026 - 1:04 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 20 বার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার শস্যভাণ্ডার খ্যাত গুমাই বিলে চলতি মৌসুমের বোরো ধান কাটা উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হলেও কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে চন্দ্রঘোনা ও ব্রহ্মোত্তর অংশে ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়েছে। তবে তীব্র তাদদাহ এবং শ্রমিকের অস্বাভাবিক মজুরির কারণে সোনালি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

কৃষকদের হাহাকার :

গুমাই বিলের চন্দ্রঘোনা এলাকার কৃষক আবদুল খালেক জানান, “এবার ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। কিন্তু সময়মতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যারাও আছে, তারা প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা মজুরি দাবি করছে। এর সাথে তিন বেলা খাবার তো আছেই। প্রচণ্ড গরমে শ্রমিকরা বেশিক্ষণ মাঠে টিকে থাকতে পারছে না, ফলে কাজের গতি অনেক কম।”

আরেক কৃষক মুসা সিকদার আক্ষেপ করে বলেন, “সকাল থেকে দুপুর হতে না হতেই রোদের তেজে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে। এক কানি জমির ধান কাটতে যে খরচ হচ্ছে, তাতে ধান বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ উঠবে কি না তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। আবহাওয়া কখন বদলে যায় ঠিক নেই, দ্রুত ধান কাটতে না
পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।”

কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য :

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এই বিষয়ে জানান, “গুমাই বিলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমরা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। তবে বর্তমানে সারাদেশে যে তাপপ্রবাহ চলছে, তার প্রভাব ধান কাটার ওপরও পড়েছে। শ্রমিক সংকট কাটাতে আমরা কৃষকদের আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন—” কম্বাইন হারভেস্টার” ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছি। সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে অনেক কৃষককে এই মেশিন দেওয়া হয়েছে, যা ব্যবহার করলে অল্প সময়ে ও কম খরচে ধান ঘরে তোলা সম্ভব।”

পরিসংখ্যান: এক নজরে গুমাই বিলের বোরো চাষ, নিচে গুমাই বিলের বর্তমান বোরো মৌসুমের একটি চিত্র তুলে ধরা হলো:

মোট আবাদি জমি প্রায় ৩,৫০০ হেক্টর (গুমাই বিল এলাকা),
প্রধান জাত, ব্রি-২৮, ব্রি-২৯ ও হাইব্রিড জাতের ধান,
শ্রমিক মজুরি ১,০০০ – ১,২০০ টাকা (প্রতিদিন),
ফলন লক্ষ্যমাত্রা : প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪.৫ থেকে ৫ মেট্রিক টন,
বর্তমান সংকট : তীব্র দাবদাহ, শ্রমিক স্বল্পতা ও উচ্চ পরিবহন খরচ,

গুমাই বিলের কৃষকরা এখন আকাশের দিকে চেয়ে আছেন। তীব্র রোদ আর মজুরির ভার সয়ে যদি দ্রুত ধান ঘরে তোলা না যায়, তবে তাদের সারা বছরের পরিশ্রম বিফলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়রা শ্রমিকের সহজলভ্যতা এবং সরকারি যান্ত্রিক সহায়তার আওতা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।