চুয়েটের প্রকৌশলী মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিবারের ভিটেমাটি দখলের অভিযোগ
হাফিজুর রহমান খান, স্টাফ রিপোর্টার: পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের নলপুখুরী গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমান ও তার পরিবার প্রায় এক বছর ধরে নিজ বসতভিটায় ফিরতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারটির দাবি, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী মোঃ মকবুল হোসেনের ইশারায় তাদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও জমি দখলের ঘটনা ঘটছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, প্রায় ৩০ বছর আগে ফজলুর রহমানের পৈতৃক বসতভিটা ও আবাদি জমি জালিয়াতির মাধ্যমে লিখে নেন মকবুল হোসেনের বাবা মশির উদ্দিন। একই সঙ্গে ফজলুর রহমানের ক্রয়কৃত ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জমিও দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ওই জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাসের স্বপ্ন দেখলেও বর্তমানে তারা উচ্ছেদ হয়ে ভাড়া বাসায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ফজলুর রহমান পেশায় একজন ক্ষুদ্র গরু ব্যবসায়ী। তার অভিযোগ, ব্যবসার প্রায় ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাকে পথে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার পরিবার আটোয়ারীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজলুর রহমানের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। এক ছেলে ঢাকায় এবং আরেক ছেলে পঞ্চগড়ে কর্মরত। দুই মেয়ের মধ্যে একজন দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকার ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি এবং অন্যজন একটি এনজিওতে চাকরি করেন।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সামাদ আজাদের কাছে বিচার চাইলে তিনি উভয় পক্ষকে নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেন। পরে সমাধান না হওয়ায় চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের পক্ষে একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ফজলুর রহমান আদালতের শরণাপন্ন হন। বিজ্ঞ আমলী আদালত-৫, আটোয়ারীতে দায়ের করা মামলা নং-১১৬/২০২৫ দীর্ঘ প্রায় সাত মাস ডিবি কার্যালয়ে তদন্তাধীন ছিল। পরবর্তীতে পুনরায় আপিলের পর ঠাকুরগাঁও পিবিআই তদন্ত করে দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৪২৭/৫০৬/১১৪ ধারার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বলে পরিবারটির দাবি।
এছাড়া জমিতে কেউ যেন স্থাপনা নির্মাণ বা দখল নিতে না পারে, সে জন্য ফজলুর রহমান এমআর মামলা নং-১৫১/২০২৫ দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে আটোয়ারী ভূমি অফিস তদন্ত পরিচালনা করে এবং পরবর্তীতে আদালত ১৮৯৮ সালের ১৪৪/১৪৫ ধারায় উভয় পক্ষকে স্ব স্ব অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে অভিযুক্তরা জমির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। পরে ফজলুর রহমান আরও একটি মামলা (সি.আর মামলা নং-১০১/২০২৬) দায়ের করেন, যা বর্তমানে আটোয়ারী থানায় তদন্তাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকৌশলী মকবুল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার চাচা ফজলুর রহমানের কোনো জমি নেই।”








