ঢাকা | জুন ৩০, ২০২৬ - ৫:৪০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

সিলেটে সাবেক ডিসি সারওয়ার আলমকে ঘিরে জনমত, স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্ক

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Tuesday, June 30, 2026 - 10:35 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 25 বার

মোঃ নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র) প্রতিনিধি: সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তাঁর বদলির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মতামত প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দায়িত্ব পালনকালে সারওয়ার আলম সরকারি দপ্তরে জবাবদিহিতা, জনসেবার মানোন্নয়ন, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর এসব পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারকে কেন্দ্র করে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে দানবাক্স, ডেগ, মান্নত ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ছিল। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সারওয়ার আলম এ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের দানবাক্স ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ গণনার পর প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, তিন দিনের হিসেবে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়। এ তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

এদিকে সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের সময় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই তাঁর বদলিকে মাজারকেন্দ্রিক স্বচ্ছতা উদ্যোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মন্তব্য করছেন। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চললেও এর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে প্রশাসনিক বদলি সরকারি কার্যক্রমের একটি স্বাভাবিক অংশ বলেও তারা উল্লেখ করেন।

সিলেটে সারওয়ার আলমের দায়িত্বকাল শেষ হলেও তাঁর শুরু করা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভবিষ্যতে মাজারের দান ও আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ হবে কি না, সেটিই এখন সাধারণ মানুষের প্রধান প্রত্যাশা।