গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী রেফার বাণিজ্যের অভিযোগ; তদন্তের দাবি
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও স্বার্থ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্ডিওলজি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা এবং সরকারি হাসপাতালের রোগীদের সেখানে পাঠিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের একটি অংশ।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, গফরগাঁও ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডা. জিল্লুর রহমানের অংশীদারিত্ব রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কিছু রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ওই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে উৎসাহিত করা হয়।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘণ্টা ইসিজি (ECG) সেবা চালু রয়েছে।
তারপরও অনেক রোগীকে হাসপাতালের বাইরে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিশেষ করে হৃদরোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে স্বল্প খরচে কিংবা বিনামূল্যে সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকলেও নানা কারণে রোগীদের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডা. জিল্লুর রহমান ২০২২ সালে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অতীতে তিনি ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ডা. জিল্লুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক যদি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্ট থেকে রোগী রেফার করে থাকেন, তবে বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।








