১৩৪ কোটির প্রকল্পে ক্ষতি প্রায় সবই, জবাই করে উটপাখি লুটপাটের অভিযোগ
জিয়াউল কবীর:সরকারি ১৩৪ কোটি টাকা খরচের পর সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একটি ঘরে এখন অবলম্বন মাত্র ২টি উটপাখি। ৫ বছর আগে আফ্রিকা থেকে আনা হয়েছিল ২১টি।
প্রতিষ্ঠানের ‘হাঁস-মুরগি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে দুই দফায় উটপাখিগুলো আনা হয়। উদ্দেশ্য ছিল গরু-খাসির মাংসের বিকল্প হিসেবে উটপাখির মাংস উৎপাদন, দেশি আবহাওয়ায় নতুন জাত উদ্ভাবন এবং ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ।
কিন্তু প্রকল্প শেষে বেরিয়ে এসেছে হতাশাজনক চিত্র। প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, ২১টির মধ্যে ১৫টিকে জবাই করা হয়েছে। ৩টি স্বাভাবিকভাবে মারা গেছে। ১টির কোনো সন্ধান নেই। বর্তমানে বেঁচে আছে মাত্র ২টি।
গবেষণার কোনো ফল নেই। কৃষকের কাছে প্রযুক্তি হস্তান্তর বা বাণিজ্যিক উৎপাদনের উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।
এদিকে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে উঠেছে স্বজনপ্রীতি, নিয়োগে অনিয়ম ও টাকা তছরুপের অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, শুরু থেকেই পরিকল্পনায় ত্রুটি ছিল। উটপাখির খাবার, আবহাওয়া ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনায় কোনো প্রস্তুতি ছিল না। একের পর এক পাখি মরতে থাকায় লোকসান ঢাকতেই জবাইয়ের পথ বেছে নেওয়া হয়।
প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, “উটপাখি পালন সম্ভব। তবে তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও বাজার যাচাই দরকার। ১৩৪ কোটি টাকা খরচ করে মাত্র ২টি পাখি টিকিয়ে রাখা রাষ্ট্রীয় অর্থের চরম অপচয়।”
জবাই করা ১৫টি পাখির মাংস কোথায় গেছে এবং কার অনুমতিতে জবাই করা হয়েছে সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
জনগণের শত কোটি টাকার এই প্রকল্পের ব্যর্থতা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।








