ঢাকা | আগস্ট ৩১, ২০২৬ - ৩:৩৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ডা. কার্ল লাটর্টু: চিকিৎসা সেবার কেন্দ্রবিন্দুতে যিনি মানবতাকে স্থান দেন

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Saturday, August 29, 2026 - 3:58 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 52 বার
মো. নাসির নিউ জার্সি প্রতিনিধি:
নিউ ইয়র্ক — ‘কেইএল (KEL) হেলথকেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস পিসি’-র মালিক ডা. কার্ল লাটর্টু (এমডি) কেবল তাঁর চিকিৎসা-দক্ষতার জন্যই নন, বরং সহানুভূতি, বিনয় এবং মানুষের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ মনোভাবের জন্যও সুপরিচিত।
হাইতিতে জন্মগ্রহণকারী ডা. লাটর্টু মাত্র সাত বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। এখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন এবং চিকিৎসাজীবনে প্রবেশের আগে তাঁর শিক্ষার একটি বড় অংশ সম্পন্ন করেন।
ডা. লাটর্টু মেক্সিকোর ‘ইউনিভার্সিটি অফ দ্য নর্থইস্ট’-এ চিকিৎসাশাস্ত্রের পড়াশোনা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে নিউ ইয়র্কের ভালহাল্লায় অবস্থিত ‘নিউ ইয়র্ক মেডিকেল কলেজ’ থেকে তাঁর মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর এই শিক্ষাজীবন রোগী-সেবা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের নেতৃত্বে নিজেকে উৎসর্গ করার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।
হাইতিয়ান ক্রিওল, ফরাসি, স্প্যানিশ এবং ইংরেজি ভাষায় কথা বলার দক্ষতা তাঁকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পটভূমির রোগীদের সাথে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে সহায়তা করেছে। সহকর্মী ও রোগীরা তাঁকে বন্ধুত্বপূর্ণ, পেশাদার এবং সহজে মিশতে পারা একজন মানুষ হিসেবে অভিহিত করেন।
যারা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, তাঁরা জানেন যে ডা. লাটর্টুর সহানুভূতি কেবল চিকিৎসকের চেম্বার বা পরীক্ষার কক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অত্যন্ত ব্যস্ত সময়সূচি থাকা সত্ত্বেও, তিনি সবসময়ই মানুষের কথা শোনার এবং কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সময় বের করেছেন।
কোভিড-১৯ মহামারীর সময় আমি তাঁর এই উদারতার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা লাভ করি; তখন আমি আমার বাড়ির ঋণের কিস্তি (মর্টগেজ) পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। সেই কঠিন সময়ে ডা. লাটর্টু আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব দেন এবং একটি স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক দিয়ে বলেন, কিস্তি পরিশোধের জন্য যতটুকু অর্থের প্রয়োজন, ততটুকুই যেন আমি ব্যবহার করি। তাঁর এই মহানুভবতা আমার মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল এবং এটি এমন একটি ঘটনা যা আমি কখনোই ভুলব না।
সেই অভিজ্ঞতা আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, ডা. লাটর্টু কেবল একজন চিকিৎসকই নন; তিনি একজন বিশ্বস্ত বন্ধুও বটে, যিনি মানুষের জীবনের অত্যন্ত কঠিন মুহূর্তগুলোতে তাদের পাশে দাঁড়াতে সর্বদা প্রস্তুত থাকেন।
ডা. লাটর্টু স্বাস্থ্যসেবা খাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে মিডটাউন ম্যানহাটান এবং কুইন্সের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিকেল ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করা অন্যতম। যদিও বর্তমানে তিনি আর ওইসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত নন, তবুও চিকিৎসা মহলে তাঁর পেশাগত সুনাম ও সুসম্পর্ক অটুট রয়েছে।
মিডটাউনের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডা. লাটর্টুর সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়। পরবর্তীতে, নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে সাক্ষাতের সময় আমি অবাক হয়ে জানতে পারি যে, সেখানকার দুজন চিকিৎসকও তাঁকে চিনতেন। একজন ব্যক্তি ড. লাটোরটুর সাথে সরাসরি কাজ করেছেন, আর অন্যজন তাঁর পেশাগত খ্যাতির সুবাদে তাঁকে চিনতেন। সেই অভিজ্ঞতা আমাকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে তাঁর অবস্থান ও নেতৃত্বের বিষয়ে আরও গভীর ধারণা দিয়েছে।
চিকিৎসা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি, ড. লাটোরটু অসাধারণ সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা স্বাস্থ্যসেবার প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং রোগী, চিকিৎসক ও অন্যান্য চিকিৎসা পেশাজীবীদের সাথে কার্যকরভাবে কাজ করার সক্ষমতাকেই তুলে ধরে।
ড. লাটোরটু হাইতির একটি বিশিষ্ট পরিবার থেকে এসেছেন। তাঁর চাচা জেরার্ড লাটোরটু ২০০৪ সালের ১২ মার্চ থেকে ২০০৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত হাইতির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর চাচাতো ভাই ইউরি লাটোরটু একজন হাইতিয়ান রাজনীতিবিদ, যিনি ২০১৭ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত হাইতির সিনেটের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ড. লাটোরটুর গর্বের অন্যতম বড় জায়গা হলো তাঁর পরিবার। তাঁর তিন সন্তান চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করছেন, যার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা পেশার সাথে তাঁদের পারিবারিক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে।
রোগী, সহকর্মী এবং বন্ধুদের কাছে ড. লাটোরটু কেবল তাঁর পেশাগত পরিচয়ের চেয়েও অনেক বেশি কিছু। তিনি এমন একজন চিকিৎসক যিনি মানুষের প্রতি গভীর যত্নশীল, ব্যাপক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন স্বাস্থ্যসেবা-নেতা এবং এমন একজন পরামর্শদাতা যিনি অন্যদের সহায়তা করায় বিশ্বাসী।
ড. কার্ল লাটোরটুর জীবন ও কর্মজীবন প্রমাণ করে যে, চিকিৎসা মানে কেবল রোগের নিরাময় নয়। এর অর্থ হলো মানুষের কথা শোনা, সহানুভূতি প্রদর্শন করা এবং যখন মানুষের সাহায্যের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো। যাঁরা তাঁকে চেনেন, তাঁদের অনেকের কাছেই তিনি কেবল একজন চিকিৎসক নন—বরং একজন বন্ধু, পরামর্শদাতা এবং প্রকৃত অর্থেই যত্নশীল একজন মানুষ।