বুধবার রাত ৮টার দিকে খিলগাঁওয়ের বনশ্রী ফরাজী হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিশা মোটরসাইকেলে ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় রমজান পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে রাত পৌনে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর রমজান পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে আটক করা হয়েছে। তিশার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া নয়াপাড়ার ৫৮/সি নম্বর বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তার বাবার নাম মো. শফিউদ্দিন আহমেদ।
প্রশ্ন উঠছে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে
তিশার এই আকস্মিক মৃত্যু আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সামনে এনেছে। একটি দুর্ঘটনার পর শুধু চালককে আটক করাই যথেষ্ট নয়—যানবাহনটি সড়কে চলাচলের উপযোগী ছিল কি না, চালকের বৈধ লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছিল কি না, এবং পরিবহন মালিক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়ম মেনেছিল কি না—এসব বিষয়ও যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
ত্রুটিপূর্ণ বা অনুপযুক্ত যানবাহন এবং অদক্ষ, প্রশিক্ষণহীন কিংবা বৈধ অনুমোদনবিহীন চালকের বিরুদ্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ না হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা বারবার ঘটতে পারে। সড়কে মানুষের জীবন রক্ষায় যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, চালকের যোগ্যতা যাচাই এবং আইন অমান্যের ক্ষেত্রে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
একজন শিক্ষিকার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বজন হারানোর ঘটনা নয়; এটি তার শিক্ষার্থী, সহকর্মী এবং সমাজের জন্যও অপূরণীয় ক্ষতি। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা তাই শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়—পরিবহন মালিক, চালক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
