অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির পাশে শেরপুর জেলা প্রশাসন: নির্মাণ হচ্ছে নতুন ঘর
আনোয়ার হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি: শয্যাশায়ী স্ত্রীকে কোলে নিয়ে খাবারের জন্য আল্লাহর কাছে কাঁদছিলেন বৃদ্ধ সাজু শেখ। অসহায় সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এবার সেই বৃদ্ধ দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছে শেরপুর জেলা প্রশাসন। তাঁদের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের পাশাপাশি পরিবারের আয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া চরপাড়া গ্রামে সাজু শেখ ও তাঁর স্ত্রী নূরজাহান বেগমের বাড়িতে যান জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় তিনি দম্পতির ছোট ছেলের হাতে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান তুলে দেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভ্যানটি বৃদ্ধ দম্পতির সরাসরি ব্যবহারের জন্য নয়। তাঁদের ছোট ছেলে ভ্যানটি চালিয়ে নিয়মিত আয় করবেন এবং সেই আয় থেকে মা-বাবার খাবার, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাবেন।
একই দিনে দম্পতির জরাজীর্ণ পুরোনো ঘর ভেঙে নতুন ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নতুন ঘরটি নির্মাণাধীন ছিল; পরিবারটি এখনো নতুন ঘর বুঝে পায়নি।
কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অসুস্থ স্ত্রীকে কোলে নিয়ে খাবারের জন্য আকুতি জানাচ্ছেন সাজু শেখ। বয়সের ভারে তিনি নিজেও শারীরিকভাবে দুর্বল। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী নূরজাহানের নিয়মিত পরিচর্যা ও চিকিৎসার প্রয়োজন।
প্রায় সাত দশকের দাম্পত্যজীবনে অভাব তাঁদের নিত্যসঙ্গী হলেও একে অপরকে ছেড়ে যাননি তাঁরা। প্রতিদিন স্ত্রীকে কোলে করে ঘরের বাইরে নিয়ে আসা এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর সেবা করার দৃশ্য মানুষের মনে গভীর দাগ কাটে।
সংবাদমাধ্যমে তাঁদের অসহায় জীবনের খবর প্রকাশের পর জেলা প্রশাসন প্রথমে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা পাঠায়। পরে জেলা প্রশাসক সরেজমিনে তাঁদের অবস্থা দেখে চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
১৪ সেপ্টেম্বর সাজু শেখ ও নূরজাহান বেগমকে শেরপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর বুধবার তাঁরা বাড়িতে ফেরেন।
জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দেশ-বিদেশের অনেক মানুষ তাঁদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। কেউ খাদ্য, কেউ চিকিৎসা ও নগদ অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেকে ভবিষ্যতেও তাঁদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, শুধু তাৎক্ষণিকভাবে খাবারের ব্যবস্থা করলেই এই পরিবারের সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। তাই বৃদ্ধ দম্পতির জন্য নিরাপদ বাসস্থানের পাশাপাশি তাঁদের ছেলের মাধ্যমে নিয়মিত আয়ের একটি উৎস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।








