শিল্পী শানুর মৃত্যু: বিটিভির বাদ্যযন্ত্রী সুমন রেজার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
আনোয়ার হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সংগীত শাখার ঊর্ধ্বতন বাদ্যযন্ত্রী মো. সুমন রেজা খানের বিরুদ্ধে সংগীতশিল্পী শাহানা শানুর মৃত্যু, মানসিক নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল, মাদক প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ততার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, শানুর সঙ্গে সুমন রেজার ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ ও হয়রানির মধ্যে রাখা হয়েছিল। এমনকি মাদকজাতীয় দ্রব্য প্রয়োগ করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা এবং পরবর্তীতে ক্যারিয়ার নষ্ট করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, শানুর চিকিৎসার পেছনে তার পরিবারকে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সুমন রেজা শানুর চিকিৎসার জন্য কোনো আর্থিক সহযোগিতা করেননি।
এদিকে সুমন রেজার বিরুদ্ধে চাকরি সংক্রান্ত অনিয়ম, পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট নিয়ে অসঙ্গতি এবং অনুমতি ছাড়া বিদেশে অবস্থানসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শানুকে ঘিরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে অডিও রেকর্ড ও সিসিটিভি ফুটেজসহ কিছু তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। এসব উপাদান যথাযথভাবে যাচাই করে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিল্পী শানুর মৃত্যুর ঘটনা এবং তার সঙ্গে সুমন রেজার সম্পর্ক নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিটিভি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তবে সুমন রেজা খানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
বিটিভির প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, মো. সুমন রেজা খান বর্তমানে সংগীত শাখায় ঊর্ধ্বতন বাদ্যযন্ত্রী হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন।
শিল্পী শানুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের দাবি উঠেছে। অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।








