পুলিশ ও কারাগার সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতে হাজিরা শেষে পিচ্চি রাজাসহ অন্য বন্দীদের কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। পথে তিনি শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজনের কথা জানান। এরপর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে শৌচাগারে নিয়ে গেলে সুযোগ বুঝে দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনার পর তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন দল অভিযান শুরু করেছে বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
একাধিক মামলার আসামি
পিচ্চি রাজাকে দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর এলাকার মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ দাবি করে আসছে। চলতি বছরের মে মাসে নেপাল থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশ সে সময় জানিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে ২৯টি মামলা রয়েছে—এর মধ্যে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক, বিশেষ ক্ষমতা, সন্ত্রাসবিরোধী ও মাদকসংক্রান্ত মামলাও রয়েছে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ২৫টির বেশি মামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পার্থক্য থাকলেও, একাধিক গুরুতর মামলায় তার নাম রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, মাদকচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পিচ্চি রাজা মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পকেন্দ্রিক একটি মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর আগে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের কথাও পুলিশ জানিয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
আদালত থেকে কারাগারে ফেরার পথে একজন বহু মামলার আসামি কীভাবে প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে পালিয়ে গেলেন—এ ঘটনায় বন্দী পরিবহনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে শৌচাগারে নেওয়ার সময় বন্দীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের নজরদারি, বন্দী পরিবহনের প্রটোকল এবং ঝুঁকিপূর্ণ আসামিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে।
এদিকে গাজীপুর মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান জানিয়েছেন, বন্দী পালানোর বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন।
পিচ্চি রাজাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। তার গ্রেপ্তার এবং পালানোর ঘটনায় দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে পরবর্তী তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।