ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ - ১১:৩৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বাবা-মেয়ের ১৭টি ম্যাকডোনাল্ডস

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, September 28, 2026 - 1:37 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 26 বার

প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)ফাস্টফুডের জগতে ম্যাকডোনাল্ডস একটি বিশ্বখ্যাত নাম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা এই বিশাল রেস্টুরেন্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে এবার উঠে এসেছে একজন বাংলাদেশি অভিবাসীর সাফল্যের গল্প। একসময় যে ম্যাকডোনাল্ডসে কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন, সময়ের ব্যবধানে সেই প্রতিষ্ঠানেরই ১৭টি রেস্টুরেন্টের মালিক-পরিচালক হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান শাহাব হায়দার। তাঁর সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন মেয়ে ইয়াসমিন হায়দার। তাঁদের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত রয়েছেন ৭৫০ জনের বেশি মানুষ।

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে শাহাব হায়দারের এই দীর্ঘ পথচলাকে ম্যাকডোনাল্ডসও তাদের ‘Golden Opportunities’ প্রচারণায় তুলে ধরেছে। সেখানে প্রায় সাত হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে একজন ম্যাকডোনাল্ডস কর্মী থেকে মালিক-পরিচালক হয়ে ওঠার তাঁর গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

তবে এই সাফল্য একদিনে আসেনি। বছরের পর বছর কাজ, অভিজ্ঞতা, অধ্যবসায় এবং ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে তাঁর এই অবস্থান।

কর্মী থেকে মালিক

যুক্তরাষ্ট্রে এসে শাহাব হায়দার প্রথমে ম্যাকডোনাল্ডসেই কর্মজীবন শুরু করেন। প্রায় সাত বছর সেখানে কাজ করার সময় তিনি রেস্টুরেন্ট ব্যবসার নানা দিক হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পান। গ্রাহকসেবা, খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা, কর্মীদের সমন্বয় এবং দৈনন্দিন পরিচালনা—সবকিছুই তাঁর অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে ওঠে।

একটি রেস্টুরেন্ট কীভাবে পরিচালিত হয়, কখন কী ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কীভাবে কর্মীদের একটি কার্যকর দল হিসেবে পরিচালনা করতে হয় এবং প্রতিদিন একই মান বজায় রাখতে হয়—এসব শিক্ষা তিনি কর্মজীবনেই অর্জন করেন। তাঁর জন্য চাকরিটি শুধু জীবিকার মাধ্যম ছিল না; পরবর্তীতে সেটিই হয়ে ওঠে ব্যবসা শেখার বাস্তব প্রশিক্ষণ।

এরপর আসে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। একসময় যে প্রতিষ্ঠানে কর্মী হিসেবে কাজ করতেন, সেই ম্যাকডোনাল্ডসের একটি রেস্টুরেন্টের মালিক হওয়ার সুযোগ পান তিনি। গড়ে তোলেন Hyder Investments। তাঁর প্রথম ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্ট ছিল মিনেসোটার ক্রিস্টাল শহরে।

প্রথম রেস্টুরেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরু হয় নতুন পরীক্ষা। কর্মী ব্যবস্থাপনা, গ্রাহকসেবা, আয়-ব্যয়, ব্যবসার পরিচালনা এবং ম্যাকডোনাল্ডসের নির্ধারিত মান বজায় রাখা—সবকিছুর দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। তবে আগের সাত বছরের অভিজ্ঞতা তাঁকে এই দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে।

এক থেকে ১৭

প্রথম রেস্টুরেন্ট সফলভাবে পরিচালনার পর শাহাব হায়দার ধীরে ধীরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে থাকেন। ক্রিস্টাল থেকে তাঁর ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ে মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল তথা টুইন সিটিজের বিভিন্ন এলাকায়। ম্যাপল গ্রোভ, ব্রুকলিন পার্ক, শ্যামপ্লিনসহ বিভিন্ন এলাকায় একে একে যুক্ত হতে থাকে নতুন ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্ট।

একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে তিনটি—এভাবেই বাড়তে থাকে তাঁর ব্যবসার পরিধি। ২০২০ সালের মধ্যে তাঁর পরিচালিত ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টের সংখ্যা ১৭টিতে পৌঁছে যায়।

একসময় যে প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী ছিলেন শাহাব, সেই প্রতিষ্ঠানেরই একাধিক রেস্টুরেন্ট এখন তাঁর ব্যবসায়িক পরিচয়ের অংশ। তাঁর পরিচালিত রেস্টুরেন্টগুলোতে বর্তমানে ৭৫০ জনের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

বাবার পথ ধরে মেয়ের এগিয়ে চলা

শাহাব হায়দারের ব্যবসায়িক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় যুক্ত হন তাঁর মেয়ে ইয়াসমিন হায়দার। ২০১৩ সালে ইয়াসমিন নিজের ম্যাকডোনাল্ডস ব্যবসা শুরু করেন। দুটি রেস্টুরেন্ট দিয়ে শুরু করে পরবর্তীতে তাঁর ব্যবসার পরিধি বেড়ে দাঁড়ায় নয়টি রেস্টুরেন্টে।

বাবাকে যেখানে কর্মী হিসেবে শুরু করে ধাপে ধাপে নিজের ব্যবসা গড়ে তুলতে হয়েছে, সেখানে ইয়াসমিনের সামনে ছিল বাবার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার ভিত্তি। ফলে এক প্রজন্মের পরিশ্রম ও অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।

অভিবাসী জীবনের অনুপ্রেরণার গল্প

নতুন দেশে এসে অনেক অভিবাসীকেই নিজের পেশাগত পরিচয় নতুন করে তৈরি করতে হয়। নিজ দেশে শিক্ষা, চাকরি কিংবা ব্যবসায় অভিজ্ঞতা থাকলেও নতুন দেশে অনেক সময় শুরু করতে হয় একেবারে নিচের ধাপ থেকে।

শাহাব হায়দারের গল্প সেই বাস্তবতার পাশাপাশি সম্ভাবনারও একটি উদাহরণ। যে মানুষটি একসময় কর্মী হিসেবে ম্যাকডোনাল্ডসে কাজ শুরু করেছিলেন, তিনিই পরবর্তীতে একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক রেস্টুরেন্টের মালিক-পরিচালক হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তাঁর মেয়ে ইয়াসমিনও।

বাবা-মেয়ের এই পথচলা শুধু একটি ব্যবসায়িক সাফল্যের গল্প নয়; এটি অভিবাসী জীবনে পরিশ্রম, অভিজ্ঞতা, ধৈর্য এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম এগিয়ে যাওয়ার একটি গল্প। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সাফল্যের নানা অধ্যায়ের মধ্যে শাহাব হায়দার ও ইয়াসমিন হায়দারের এই উদ্যোগও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।