জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দেয়। এতে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়। কাতারের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয় বলে ইরান জানিয়েছে।
তবে ট্রাম্প শনিবার ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ইরানের প্রস্তাব তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। একই সময়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর ভবিষ্যতে আবারও সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
‘আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান’—ইরান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়ে তেহরানের শর্ত পরিষ্কার। এসব শর্ত পূরণ হলেই প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে অগ্রসর হওয়া সম্ভব। তাঁর ভাষায়, অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পথ হলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও জানিয়েছেন, তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে তিনি বলেছেন, চাপ বা হুমকির মাধ্যমে কোনো সমাধান মেনে নেবে না ইরান।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়েছে। সংঘাত আরও বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে চলমান সংঘাতে ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে। ফলে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে একদিকে চলছে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, অন্যদিকে সামরিক উত্তেজনাও পুরোপুরি কমেনি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি কোন দিকে যায়—তা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।