২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র্যাগ এ ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের তথ্য জানান। খবরটি প্রকাশ করেছে নিউইয়র্কের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
দুই নারী রোগীর অভিযোগ
ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগে উল্লেখ করা প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২৫ আগস্ট ২০২৬ সালে এবং দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ২ সেপ্টেম্বর।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, প্রথম নারী রোগী চিকিৎসকের কাছে মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরার সমস্যা নিয়ে গেলে তাঁকে পরীক্ষার টেবিলে শুতে বলা হয়। এরপর শারীরিক চাপ কমানোর জন্য ম্যাসাজ দেওয়ার কথা বলে চিকিৎসক তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় নারী রোগীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যাসাজ দেওয়ার সময় চিকিৎসক ওই রোগীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হাত দেন।
দুই ঘটনাই ঘটে ম্যানহাটনের ১৪থ স্ট্রিট মেডিক্যাল আর্টস নামের একটি বহুবিষয়ক চিকিৎসাকেন্দ্রে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাগুলোর সময় রোগীরা বন্ধ দরজার পরীক্ষাকক্ষে ছিলেন।
চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ?
ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তিন ধরনের অপরাধে দুটি করে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
● প্রথম ডিগ্রির যৌন নিপীড়নের দুটি অভিযোগ।
● জোরপূর্বক অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের দুটি অভিযোগ।
● তৃতীয় ডিগ্রির যৌন নিপীড়নের দুটি অভিযোগ।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, চিকিৎসক অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আদালতে অভিযোগ গঠন করা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
আরও ভুক্তভোগী আছেন কি না, তদন্ত চলছে
ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র্যাগ বলেছেন, চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর কোনো রোগীর যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত থাকার কথা জানিয়ে অন্য কোনো রোগী একই ধরনের অভিজ্ঞতার শিকার হয়ে থাকলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে আইনগতভাবে নির্দোষ বলে গণ্য করতে হবে।
