দুই প্রার্থীর লড়াইয়ে জাতীয় নেতারা
মিশিগানের এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের পক্ষে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও ২৪ অক্টোবর ডেট্রয়েটে তাঁর পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের সমর্থনে মাঠে নেমেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শীর্ষ নেতারা। ১৫ অক্টোবর মিশিগানের মনরো শহরে রজার্সের সমর্থনে সমাবেশে অংশ নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেখানে তিনি নির্বাচনকে রাজনৈতিক অসন্তোষ ও কৃতজ্ঞতার মধ্যে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনীতি আলোচনার কেন্দ্রে
প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, শুল্কনীতি, অভিবাসন এবং পররাষ্ট্রনীতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সায়েদ সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধি এবং করপোরেট প্রভাব নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্স তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর বিভিন্ন প্রস্তাবের বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মূল্যস্ফীতি ও আবাসন ব্যয় কমানোর বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
৮ অক্টোবর দুই প্রার্থীর প্রথম টেলিভিশন বিতর্কে এসব নীতিগত প্রশ্নের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও তীব্র বাক্যবিনিময় হয়।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ আসন
মিশিগানের সিনেট নির্বাচন শুধু অঙ্গরাজ্যটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য নয়, ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্সের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, সে সময় মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি আসন ছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের একাধিক আসনে জয়ী হতে হবে।
মিশিগানের আসনটি শূন্য হচ্ছে বর্তমান সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে। আগস্টের প্রাথমিক নির্বাচনে এল-সায়েদ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্স নিজ দলের প্রাথমিক নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মনোনয়ন পান।
প্রচারণায় বিপুল অর্থ ব্যয়
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নির্বাচনে বিজ্ঞাপন ব্যয় ১৮১ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এতে জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সংগঠন ও বাইরের সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের আগে দুই প্রার্থীই বিভিন্ন অঞ্চলের ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। দলীয় সমর্থকদের পাশাপাশি স্বাধীন ও দোদুল্যমান ভোটারদের সমর্থন অর্জনও তাঁদের প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
৩ নভেম্বরের ভোটে মিশিগানের ভোটাররা কাকে বেছে নেন, তা জানতে নির্বাচনের ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ পর্যন্ত মার্কিন সিনেটের ক্ষমতার ভারসাম্যে কী প্রভাব ফেলে, সেটিও থাকবে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায়।