প্রচ্ছদ » » হোচুলকে ‘সমাজতান্ত্রিক ও আমেরিকাবিরোধী আন্দোলনের হাতিয়ার’ বললেন রিপাবলিকান প্রার্থী ব্লেকম্যান
হোচুলকে ‘সমাজতান্ত্রিক ও আমেরিকাবিরোধী আন্দোলনের হাতিয়ার’ বললেন রিপাবলিকান প্রার্থী ব্লেকম্যান
- দৈনিক নবোদয় ডট কম
- আপডেট: Saturday, October 17, 2026 - 6:08 pm
- News Editor
- পঠিত হয়েছে: 4 বার
১৭ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্ট-এর এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ব্লেকম্যান বলেন, হোচুল এখন মামদানির নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসনের উচ্চ কর, ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। তবে এগুলো ব্লেকম্যানের রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ; হোচুলের অবস্থান ও নীতির সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য রয়েছে।
কর ও জ্বালানি ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি
ব্লেকম্যানের দাবি, গভর্নর নির্বাচিত হলে তিনি রাজ্যের কর কমানোর উদ্যোগ নেবেন এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল অর্ধেক পর্যন্ত কমানোর চেষ্টা করবেন। তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসংক্রান্ত কিছু নীতি বাতিল বা পরিবর্তন করা।
তাঁর যুক্তি, জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো গেলে ভোক্তাদের খরচ কমানো সম্ভব হবে। তবে বিল অর্ধেক কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা যাবে কি না, তা নির্ভর করবে জ্বালানির বাজার, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর।
যানজটের মূল্য বাতিল ও নিরাপত্তা জোরদারের পরিকল্পনা
নিউইয়র্ক সিটির যানজট কমাতে চালু হওয়া কনজেশন প্রাইসিং ব্যবস্থা বাতিল করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ব্লেকম্যান। পাশাপাশি তিনি নগরীতে পুলিশের শূন্য পদ পূরণ, আইন প্রয়োগ জোরদার এবং অপরাধ প্রতিরোধে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলেছেন।
তাঁর মতে, নিরাপদ জনজীবন নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নজরদারি ক্যামেরা, মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ।
হোচুলের নীতির সমালোচনা
সাক্ষাৎকারে ব্লেকম্যান দাবি করেন, হোচুল নিজের প্রশাসনিক সাফল্য তুলে ধরার পরিবর্তে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থানকে নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে রাখছেন। তাঁর অভিযোগ, এতে রাজ্যের কর, জ্বালানি ব্যয় ও জননিরাপত্তা নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ আড়ালে থেকে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, হোচুল ও ব্লেকম্যানের রাজনৈতিক অবস্থান ও নীতিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। হোচুল তাঁর প্রশাসনের নীতি ও কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, আর ব্লেকম্যান সেগুলোর পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন।
নিউইয়র্ক থেকে মানুষের চলে যাওয়া ঠেকাতে চান
ব্লেকম্যান বলেন, নিউইয়র্কের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে পারলে অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে যাওয়ার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে। নাসাউ কাউন্টিতে কর নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির অভিজ্ঞতাকে তিনি নিজের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, গভর্নর নির্বাচিত হলে রাজ্য আইনসভা ও নগর প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা এবং বাজেটসংক্রান্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন। তবে কনজেশন প্রাইসিং বাতিল, করের বড় ধরনের পরিবর্তনসহ বেশ কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়নে আইনসভা ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে।
গভর্নর নির্বাচনে রাজনৈতিক লড়াই তীব্র
২০২৬ সালের নিউইয়র্ক গভর্নর নির্বাচনকে সামনে রেখে হোচুল ও ব্লেকম্যানের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। মামদানির নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব এখন এই নির্বাচনী লড়াইয়ের অন্যতম আলোচিত বিষয়।
ব্লেকম্যান নিজেকে কর কমানো, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও নিরাপদ সমাজ গড়ার পক্ষে একজন বাস্তববাদী প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করছেন। অন্যদিকে, তাঁর প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়নযোগ্য এবং সেগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব কী হতে পারে, তা নির্বাচনী বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুনঃ
সর্বশেষ আপডেট








