যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর উন্নত জীবনযাপনের আশায় কিছু মার্কিন নাগরিক ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তবে নতুন দেশে গিয়ে তাঁদের কেউ কেউ এখন বুঝতে পারছেন, বিদেশের জীবন সব সময় প্রত্যাশার মতো সহজ বা সুবিধাজনক নয়।
ইউরোপে বসবাস শুরু করা কয়েকজন মার্কিন নাগরিক তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানিয়েছেন, বেশি কর, তুলনামূলক কম বেতন, স্বাস্থ্যসেবার খরচ এবং সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণে তাঁদের নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়া এক মার্কিন নারী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে দৈনন্দিন জীবনে সহজলভ্য বলে বিবেচিত কিছু সুবিধা যুক্তরাজ্যে বিলাসিতা হিসেবে মনে হতে পারে। অন্যদিকে, জার্মানিতে চলে যাওয়া এক মার্কিন নাগরিক ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসেছেন। তাঁর স্বীকারোক্তি, দেশ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হয়তো তিনি পরিস্থিতিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ইউরোপে বসবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করলে কেউ কেউ সমালোচনার মুখেও পড়ছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদারপন্থী শহরে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় একজনকে মন্তব্যকারীরা ‘পাগলামি’ বলে কটাক্ষ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিবিষয়ক সাময়িকী WIRED-এর এক প্রতিবেদনে এসব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইউরোপের জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও—যেমন কিছু দেশে তুলনামূলক কম অপরাধপ্রবণতা ও উন্নত খাবারের অভিজ্ঞতা—চাকরি, আয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং নতুন সমাজে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকের প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার পার্থক্য দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অন্য দেশে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শুধু রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত জীবনযাত্রার ছবি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বরং সম্ভাব্য আয়, কর, স্বাস্থ্যবিমা, চাকরির সুযোগ, বাসস্থান এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা থাকা জরুরি।
প্রতিবেদনে উঠে আসা অভিজ্ঞতাগুলো দেখায়, এক দেশে যে জীবন সুবিধাজনক, অন্য দেশে তা একই রকম নাও হতে পারে। বিদেশে নতুন জীবন শুরু করার ক্ষেত্রে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।