ঢাকা | অক্টোবর ২৭, ২০২৬ - ১১:১৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে উদ্বেগ, নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Tuesday, October 27, 2026 - 4:22 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 4 বার
প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনের শাসন ও পেশাদার পুলিশি নেতৃত্ব জরুরি

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর ২০২৬: বাংলাদেশের পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’—এমন বক্তব্য দেশজুড়ে উদ্বেগ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে থাকা একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশিত কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

গত সোমবার ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ইসলামী ব্যাংকের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় আইজিপি বলেন, প্রয়োজন হলে এবং সরকার অনুমতি দিলে পুলিশ ক্রসফায়ার করতে পারে। তাঁর এই বক্তব্যের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন ও সাংবাদিক সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটি জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে রাখারও আহ্বান জানিয়েছে।

জননিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ

একজন নাগরিকের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো—তিনি যেন নিজের দেশে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন, রাতে বা দিনের বেলায় একা বাইরে বের হলে আতঙ্কে থাকতে না হয় এবং অপরাধের শিকার হলে ন্যায়বিচার পান। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ থাকলে এবং পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার বক্তব্যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা তৈরি হলে জনআস্থা আরও দুর্বল হতে পারে।

আমার ব্যক্তিগত মত হলো, পুলিশের দায়িত্ব অপরাধ দমন করা, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ সংগ্রহ করা এবং অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করা। কোনো অপরাধী যতই প্রভাবশালী বা বিপজ্জনক হোক না কেন, তার অপরাধের বিচার হওয়া উচিত আইন অনুযায়ী। রাষ্ট্রের ক্ষমতা কখনোই বিচারিক প্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে না।

আইজিপির পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন

আমার মতে, পুলিশের সর্বোচ্চ পদে এমন একজন কর্মকর্তার থাকা উচিত, যিনি কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সংবিধান, মানবাধিকার ও নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন। তাঁর প্রতিটি বক্তব্যে পেশাদারত্ব, সংযম ও আইনের প্রতি অঙ্গীকার প্রতিফলিত হওয়া জরুরি।

এই পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত আইজিপির বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা চাওয়া, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া। বক্তব্যের ব্যাখ্যা ও জবাবদিহি সন্তোষজনক না হলে তাঁর পদে থাকা অব্যাহত রাখা উচিত কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।

যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বই সময়ের দাবি

বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীতে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যিনি আধুনিক অপরাধ দমনের কৌশল, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, পেশাগত সততা এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারবেন। শুধু কঠোরতার ঘোষণা নয়, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাস্তব ফলাফলই হওয়া উচিত নেতৃত্বের সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি।

সরকারের উচিত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সততা, মানবাধিকারবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি এবং জবাবদিহির রেকর্ড বিবেচনা করে পুলিশের নেতৃত্ব নির্বাচন করা। এমন একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন, যিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হবেন, কিন্তু নিরপরাধ মানুষের অধিকার ও আইনের শাসনের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না।

পুলিশের শক্তি হোক আইনের শাসন, ক্রসফায়ারের হুমকি নয়

পুলিশ বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে, কোনো ব্যক্তি যেন বেআইনি বলপ্রয়োগ বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার না হন।

পুলিশের কাজ মানুষকে ভয় দেখানো নয়; মানুষের মনে নিরাপত্তা ও আস্থা তৈরি করা। সরকার ও পুলিশ নেতৃত্বের কাছে জনগণের প্রত্যাশা স্পষ্ট—দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

Inline image