পাম্পের পানির সঙ্গে গ্যাস, জ্বলছে আগুন
আনোয়ার হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সাবমারসিবল পাম্পের পানির সঙ্গে বের হচ্ছে গ্যাস। পাইপের মুখে আগুন ধরিয়ে দিতেই দাউ দাউ করে জ্বলে উঠছে আগুন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভূগর্ভে গ্যাসের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে দ্রুত বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলার বান্ধবাড়ি ইউনিয়নের ভাসাই বাজারে গিয়ে দেখা যায়, হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী কামরুল শেখের দোকানের সামনে উৎসুক মানুষের ভিড়। অনেকে পাম্প চালু করে পাইপের মুখে গ্যাস লাইট ধরিয়ে আগুন জ্বলার দৃশ্য দেখছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে বিভিন্ন মাছবাহী গাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য ২৮০ ফুট গভীরতায় একটি সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন করেন কামরুল শেখ। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে পাম্পটি থেকে আগের তুলনায় পানি কম উঠছিল। এ অবস্থায় বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে কৌতূহলবশত পাম্পের পাইপের মুখে গ্যাস লাইট ধরালে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তেই বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর থেকেই ঘটনাটি দেখতে কামরুল শেখের দোকানে ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। তাঁদের অনুরোধে মাঝেমধ্যে পাম্প চালু করে আগুন জ্বলার বিষয়টি দেখাচ্ছেন তিনি।
পাম্পের মালিক কামরুল শেখ জানান, মাছবাহী গাড়িতে পানি সরবরাহের উদ্দেশ্যে এক বছর আগে তিনি গভীর নলকূপটি স্থাপন করেন। সম্প্রতি পানি কম ওঠায় বুধবার রাতে পরীক্ষা করতে গিয়ে পাইপের মুখে গ্যাস লাইট ধরান। তখনই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে এসে নিজের চোখে আগুন জ্বলতে দেখেছেন তাঁরা। তাঁদের ধারণা, মাটির নিচে প্রাকৃতিক গ্যাসের কোনো উৎস থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানান তাঁরা। ভূগর্ভে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলে তা দেশের জন্য সম্ভাবনাময় সম্পদ হতে পারে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি সংশ্লিষ্ট তহশীল কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
তবে পাম্প থেকে নির্গত পদার্থটি প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের গ্যাস, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা জরুরি।








