ঢাকা | মার্চ ১১, ২০২৬ - ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

বিশ বিশ নয় ‘বিষ বিষ’ হয়ে গেঁথে থাকবে ২০২০ সাল!

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Thursday, December 31, 2020 - 7:26 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 117 বার

আবার তাহারে কেন ডেকে আনো?/ কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!’ শুধু কবি জীবনানন্দ দাশ নন, কেউই দুঃখের স্মৃতি মনে রাখতে চায় না।

২০২০ সাল যখন প্রথম এসেছিল, তখন সেটার ওপর আমাদের অনেক আস্থা ছিল। সংখ্যাটাই ছিল সুন্দর ছন্দময় একটা সংখ্যা ২০২০, যখন চোখের দৃষ্টি নিখুঁত হয় সেটাকে ২০২০ ভিশন বলা হয়। সবকিছু ছক ধরেই চলছিল। কার্যকর গণতন্ত্র ও সুশাসনের পুরোনো ঘাটতির সঙ্গে কিছুটা ম্রিয়মাণ অর্থনীতি নিয়ে শুরু হয়েছিল ২০২০ সাল। তাই বিশ বিশ নয় ‘বিষ বিষ’ হয়ে গেঁথে থাকবে ২০২০ সাল। শুনলেই যেন, জনমনে একটা আতঙ্কের ভাব চলে আসে৷ আধুনিক যুগের মহামারি করোনার জন্য সবকিছু থমকে গিয়েছে, পাল্টে দিয়েছে সবকিছু। বছরটি যে শুধু সবকিছু বদলে দিয়েছে তাই নয়, অনেক কিছু বদলানোর প্রয়োজনীয়তাও আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে৷

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আরও কষ্টে কেটেছিল মানুষের দিন। মৃত্যুর মোহর হাতে নিয়ে চলেছে জীবন। কিন্তু তাতে তো ছিল আত্মত্যাগে মহিমান্বিত হওয়ার সুযোগ। ছিল মুক্তির স্বপ্ন। আর এবার আছে কেবল ভয়, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কা। ২০২০ সালের সময়গুলো এভাবে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে কাটাতে হবে ভাবেনি কেউ। মহামারি করোনাভাইরাস এত তীব্রভাবে আমাদের গ্রাস করবে, সেটা আমাদের অজানা ছিল। তবে, ২০২০ সাল জীবনে নতুন অনেক অভিজ্ঞতার অর্জন হয়েছে, যা হয়তো অন্য কোনো সময়ে সম্ভব হতো না। আমরা অজানা কিছু নতুন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা শব্দের সঙ্গে পরিচিতি লাভ করেছিও বটে।

করোনা–সংক্রান্ত কয়েকটা ইংরেজি শব্দ বেশ ব্যবহৃত হয়েছে কোয়ারেন্টিন (সেলফ/হোম), সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং, কমিউনিটি স্প্রেড, হোম স্কুলিং ইত্যাদি।

জীবন নামক ক্ষুদ্র গ্রন্থের বিরল এক অধ্যায়ের নাম করোনার বছর। ঝড়া পালকের মতো একটি বছর যেন, আমাদের জীবন থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিশ্বকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল। সবকিছু থমকে গেছে। অনেক কিছু দিয়েছে, নিয়েছে, শিখিয়েছে এই ২০২০ সালটি৷

করোনা মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধিসময়ের আবর্তনে কালের বিবর্তনে আজ আমরা আবর্তিত। মৃদু শীতের রেষকে উপেক্ষা করে মহামারি আর শঙ্কার উত্তাপ যেন গোটা পৃথিবীকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিলো অল্প সময়ের ব্যবধানে। দেখিয়ে দিয়ে গেছে প্রকৃতির রূপ। করোনাভাইরাস আমাদের দৈনন্দিন জীবনে, পরিবেশে অর্থনীতির ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। যেখানে মানবজাতির অসহায় আত্মসমর্পণ ফুটে উঠেছে। এই ছোট জীবনের ব্যতিক্রম এক অধ্যায়ের নাম ২০২০ সাল।

জীবন সেতো পদ্ম পাতার জল। একদমই ক্ষণস্থায়ী। প্রতিনিয়তই ক্ষণস্থায়ী জীবনের এক একটি পৃষ্ঠা বদল হচ্ছে। পাওয়া না পাওয়ার অভিযোগ কে পেছনে ফেলে দিয়ে ভাবনার নতুন প্রত্যয়কে জাগ্রত করে, বরণ করে নিয়েছিলো মানুষ ২০২০ কে। নতুন কিছু করার স্বপ্ন। প্রিয়জনের পাশে থাকার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ছিল। পরিচিত মানুষগুলোর মুখে এক টুকরো হাসি ফোটানোই ছিল মূল লক্ষ্য। জীবন নদীর শান্ত গতিপথ হঠাৎ যেন আটকে যায় করোনা নামক ভাইরাসের বাঁকে। তাই আজও প্রতিটি মানুষ তীব্র মানসিক হতাশায় দিন কাটাচ্ছে।

২০২০ সাল যেন চিরস্মরণীয় করে দিয়ে গেলো মন্দের ভালোতে। উষ্ণতা, শীতলে, অমাবস্যা, পূর্ণিমাতে ছাদে আকাশের রঙ গোনা যায়নি বলে পুরো বছরেই উদিগ্ন, বিষ্ময়ে আর হাহাকারে কেটেছে। শরৎ, বসন্ত, গ্রীষ্ম সে যেনো এক করে দিয়েছে করোনাকালীন এ বিশ্ব। ( ২০) বিশের এই সামর্থ প্রকাশে পায় না আলাদা বর্ণনার। নীরব গাণিতিক শব্দটা দৃষ্টিসীমানায় আসতেই কে যেন তার মর্মার্থের বিলবোর্ডটা উচিয়ে মনরাজ্যে ট্রাফিকের মত দাঁড়িয়ে রয়।

পৃথিবীর হিসেবে, আমাদের দেশে করোনায় খুব বেশি মানুষ মারা যায়নি কিন্তু সাহায্য করার জন্য কত ভিন্ন ধরনের কাজ মানুষ করেছে সেগুলো দেখে মানুষের মনুষ্যত্ববোধের ওপর নতুন করে বিশ্বাস ফিরে এসেছে।

এই বিপুল জনগোষ্ঠীর এখন একটাই আশা, করোনা-ঝড় মোকাবিলা করতে সক্ষম হোক মানুষ। বছর বিদায়ের আগেই অবশ্য আশার আলো দেখিয়েছে চিকিৎসা-বিজ্ঞান। বিরুদ্ধ-পরিবেশের কাছে মানুষের পরাভব না মানার যে স্পৃহা তা আবার জয়ী হয়েছে। স্বল্পতম সময়েই আবিষ্কার হয়েছে করোনার ভ্যাকসিন। কয়েকটি দেশে ভ্যাকসিনের ব্যবহারও শুরু হয়েছে। বাংলাদেশও নতুন বছরের শুরুতেই ভ্যাকসিন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সমতার ভিত্তিতে সবার কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছাতে কত সময় লাগবে, এটা কতটা সহজলভ্য হবে, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও আশাহত হওয়ার কিছু আছে বলে মনে হয় না।

মানুষ যেমন মারণাস্ত্র আবিষ্কারে দক্ষতা দেখাতে পারছে, তেমমি জীবন রক্ষার ওষুধ আবিষ্কারও মানুষের সাধ্যের বাইরে নয়। মানুষ মরণশীল হলেও মানুষের অসাধ্য কিছু থাকছে না। পৃথিবীকে বাসঅযোগ্য করার জন্য যেমন কিছু মানুষের দুষ্ট বুদ্ধি দায়ী, তেমনি পৃথিবীকে নতুন করে গড়ে তুলতেও শুভবুদ্ধির মানুষেরাই এগিয়ে আসে। প্রকৃতির সঙ্গে বৈরিতা, নিষ্ঠুরতা করার পাশাপাশি প্রকৃতি রক্ষায়ও উদ্যোগী হচ্ছে মানুষই। তাই মানুষের ওপর বিশ্বাস না হারিয়ে আশায় দিন গুণতে হবে আমাদের। ঝড় যেমন ওঠে, তেমনি ঝড় থেমেও যায়। করোনাকাল নিশ্চয়ই চিরস্থায়ী হবে না। করোনাভীতি কাটিয়ে উঠে হয়তো নতুন কোনো ভয়ের মুখোমুখি হওয়ার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে ভয়ই শেষ কথা নয়। জয়ের হাতছানি থাকেই।

প্রতিটা দিকের ভালো দিক মন্দ দিক সবই থাকে, সব মিলিয়ে তাই ২০ কে বিচিত্রের নায়ক বললেও নেহাত ভুল, বেচে থাকাটাই ছিল বছরের বড় সুখবর। তাই বলে বছরটা কি শুধু দুঃখেই কেটেছে? না, বহু পরিবারে বহু সুখস্মৃতিও আছে। করোনার মধ্যেও অনেক তরুণ-তরুণী ঘর বেঁধেছেন নতুন জীবনের স্বপ্নে। অনেক দম্পতি দেখেছেন নতুন সন্তানের মুখ। বহু পরিবারে ভালোবাসার বন্ধন আরও শক্ত হয়েছে। বহু মানুষ অচেনা-অসহায় মানুষের কষ্টে পাশে দাঁড়িয়েছে।

সময় প্রবাহমান, কালের বিস্তারে আবারও এক নতুন দিগন্তের পথে আমরা সবাই ডানা মেলবো আগত ২০২১ এ, এই হোক সবার মনের একান্ত আবেদন। আশা করি, স্বপ্ন নতুন বছরে নতুন করে জাগ্রত হবে। নতুন করে আবারো সবাই ভালোবাসার উষ্ণতা ছড়িয়ে দেবে সবার মনে। দূরত্বের গতিপথে দেখা দেবে আকাল। সবাই তাদের প্রিয়জনের পাশে থেকে তাদের মুখে হাসি ফোটাবে। মনের কোণে এই প্রত্যয়ই ব্যক্ত করে আগমন জানাই ২০২১ কে। ২০২১ হোক সবার জন্য সুখের বছর।