ঢাকা | মার্চ ১১, ২০২৬ - ১:৩৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

খানসামায় স্বল্প খরচে রঙিন ফুলকপিতে চাষে সফল রফিকুল  

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, February 19, 2025 - 11:10 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 55 বার

মোঃ লায়ন ইসলাম, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
পরীক্ষামূলকভাবে রঙিন ফুলকপির চাষ করে সফল হয়েছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের নেউলা গ্রামের কৃষক মোঃ রফিকুল ইসলাম। তিনি প্রতিবছর সাদা ফুলকপি, বাঁধাকপি চাষ করলেও এবার তার ক্ষেতে শোভা পাচ্ছে হলুদ, সবুজ ও বেগুনি রঙের ফুলকপি। স্থানীয় বাজারেও বেশ সাড়া ফেলেছে রঙিন এই ফুলকপি। কৌতূহলবশত কিনছেন অনেকে, বিক্রিও হচ্ছে বেশি দামে। আশানুরূপ দাম পাওয়ায় রফিকুল ইসলাম নিজেও খুশি।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে পাইকারী দরে বিক্রির জন্য নিজের ক্ষতি থেকে রঙিন ফুলকপি সংগ্রহ করছেন রফিকুল ইসলাম। ক্ষেতের চারপাশে যেন রঙের মেলা, যেখানে সবুজ পাতায় মোড়ানো সোনালি, লাল, হলুদ ও বেগুনি রঙের ফুলকপি চোখ জুড়াচ্ছে। এই চমৎকার রঙিন ফুলকপি দেখে স্থানীয় কৃষক ও উৎসুক দর্শকেরা মুগ্ধ। কেউ কিনছেন আবার কেউ চাষের পরামর্শ নিচ্ছেন।

রঙিন ফুলকপি চাষী রফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর ধরে তিনি নিয়মিত সাদা ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ৩৩ শতক নিজ জমিতে হাইব্রিড রঙিলা জাতের এই রঙিন ফুলকপি চাষ করেন। এই ফুলকপি চাষের জন্য বিশেষ কোনো রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। সব মিলিয়ে ৮-১০ হাজার টাকার খরচে তিনি ৫০-৬০ হাজার টাকার বিক্রির আশা করছেন।

প্রতিটি ফুলকপি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি করে ইতিমধ্যেই ৩০-৩৫ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রঙিন ফুলকপি চাষ শুরু হয়েছে। ২০২৪-২০২৫ রবি মৌসুমে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ওই কৃষককে চারা বিতরণ, জৈব সার, ফেরোমন ফাঁদ এবং পরামর্শ প্রদান করা হয় ।

এদিকে রঙিন ফুলকপির আকর্ষণীয় রঙ ও সুস্বাদু স্বাদের কারণে এগুলোর বাজার মূল্য সাদা ফুলকপির তুলনায় বেশি ফলে কৃষকরা কম পুঁজিতে অধিক লাভবান হওয়ার সুযোগ পেয়ে চলেছেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় রঙিন ফুলকপি চাষ করে স্বল্প খরচে বেশি লাভবান হয়েছি। ফলে আগামী মৌসুমে আরও বেশী জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষাবাদ করবো।

খামারপাড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ.ম.জাহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষণিক ওই কৃষককে সার, বীজ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রঙিন ফুলকপি চাষে তাঁর সফলতা দেখে অন্যান্য কৃষকরাও চাষাবাদের জন্য উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, রঙিন ফুলকপি চাষাবাদের শুরু থেকেই কৃষক রফিকুল ইসলাম কে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। ফুলকপির ফলনও ভালো হয়েছে। নতুন এই জাতের রঙিন ফুলকপি পুষ্টি চাহিদা পূরণ করবে। সেই সাথে অল্প পুঁজিতে কৃষকরা অধিক লাভবান হবে। এইজন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ সার্বিক বিষয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করছেন।