নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার ও প্রবাসীর স্ত্রী- সন্তান নিয়ে পালিয়েছে প্রতিবেশী, থানায় অভিযোগ
সখিপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলায় নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার ও প্রবাসীর স্ত্রী- সন্তান নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালমেঘা মইশাকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার মল্লিক (৫৯) থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, তাঁর ছেলে মো. সবুজ মল্লিকের সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বাটাজোর এলাকার আমিনুল মিয়ার মেয়ে অঞ্জনা আক্তারের (২৩) বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তাবাসসুম আক্তার (৫) নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সবুজ মল্লিক প্রবাসে থাকার সুযোগে একই গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে সিয়াম মল্লিক(২২) অঞ্জনা আক্তারের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার আপত্তি জানানো হয়।
এছাড়াও বাদী আরো জানান, আমার ছেলের বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা ও স্বর্ণালংকারের লোভে পড়ে বিবাদী ২ সিয়াম মল্লিক আমার ছেলের বউ অঞ্জনা আক্তার কে নানাভাবে ফুসলিয়ে তার কথামতো চলতে বাধ্য করে। এই ঘটনায় সিয়ামের চাচাতো ভাই সোহাগ ও তার বন্ধু সুমন সিয়ামকে সহযোগিতা করেছে বলেও আমারা মনেকরি।
গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রাতের খাবার শেষে অঞ্জনা আক্তার তার কক্ষে ঘুমাতে যান। পরে ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে সেহরি খাওয়ার জন্য তাকে ডাকতে গেলে ঘরের দরজা খোলা দেখা যায়। ঘরে ঢুকে দেখা যায় অঞ্জনা আক্তার ও তাঁর মেয়ে তাবাসসুম নেই। একই সঙ্গে ছেলের কক্ষে থাকা প্রায় সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা উধাও।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারেন, প্রতিবেশী সিয়াম মল্লিক অঞ্জনা আক্তারকে, তাঁর কন্যাসন্তান, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সখিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান আব্দুস সাত্তার মল্লিক।
এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সখিপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. ইউসুফ আলী জানান, অভিযোগ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন পিপিএম জানান, সাথে শিশু থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। আশা করি দ্রুতই তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে।








