গুণীজনকে সম্মান জানানো মানেই জাতির ভবিষ্যৎকে সমৃদ্ধ করা: চট্টগ্রামে মইনুদ্দীন কাদেরী শওকতকে সংবর্ধনা
মোঃ শহীদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিবেদক চট্টগ্রামঃ সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রায় গুণীজনদের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁদের কর্ম, ত্যাগ, সততা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করে। একটি সভ্য ও উন্নত জাতি সবসময় তার গুণী সন্তানদের যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান প্রদান করে থাকে। কারণ গুণীজনদের সম্মানিত করা শুধু ব্যক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া নয়, বরং সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম এবং মানবকল্যাণে কাজ করার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করা।
চট্টগ্রামের প্রবীণ সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সম্পাদক এবং বিশ্ব প্রেস কাউন্সিলের সাবেক নির্বাহী সদস্য মইনুদ্দীন কাদেরী শওকতের ৭২তম জন্মদিন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
গত শুক্রবার নগরের খুলশী থানাধীন ফয়েজ লেক নুরিয়া মাদ্রাসা গলির ৪ নম্বর সড়কে অবস্থিত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর কার্যালয়ে ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রামের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা ও জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রামের সভাপতি শিব্বির আহমেদ ওসমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও সংবর্ধিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা নুরুল আবসার তৌহিদ।
অনুষ্ঠানে ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রামের উপদেষ্টা, কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও শুভেচ্ছা ক্রেস্ট প্রদান করে দেশবরেণ্য এই সাংবাদিককে সংবর্ধনা জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত বলেন, “স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভক্তি ও অনৈক্য সৃষ্টি হলে দেশ পুনরায় সংকটের দিকে ধাবিত হতে পারে। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে হলে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়; এটি একটি দায়িত্ব, একটি অঙ্গীকার এবং জনকল্যাণের জন্য পরিচালিত এক মহৎ প্রয়াস। সত্য, ন্যায় ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সমাজকে সচেতন করতে পারেন, তেমনি সঠিক তথ্যের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথও সুগম করতে পারেন।”
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “বস্তুনিষ্ঠতা, নৈতিকতা ও পেশাগত সততা সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি। গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে সত্য প্রকাশে সাহসী এবং দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।”
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে নুরুল আবসার তৌহিদ বলেন, “যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান না দিলে সমাজে নতুন গুণীজন তৈরি হয় না। শ্রদ্ধেয় মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে সততা, সাহসিকতা ও পেশাগত নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর লেখনী ও কর্মময় জীবন দেশ ও জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদ।”
তিনি আরও বলেন, “সংবাদপত্র, গণতন্ত্র ও জনস্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে তাঁর দৃঢ় অবস্থান আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং অব্যাহত কর্মময় জীবন কামনা করছি।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি জামাল চৌধুরী বিপ্লব, যুগ্ম সম্পাদক মানিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. অলিউল্লাহ চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন (মাসুদ), দপ্তর সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মইন উদ্দিন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক সোলায়মান, দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান মুরাদ হোসেন বিপ্লব, ফেইস দ্য পিপলস-এর চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি ওসমান এহতেসাম, স্বপ্নের বাংলা পত্রিকার প্রতিনিধি সৌরভ বিশ্বাস, সাবেক ছাত্রনেতা মো. ফয়েজ আলী, আলী হাসান অপু, যুবনেতা আব্দুল খালেক, আলী আকবরসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে সংবর্ধিত অতিথি মইনুদ্দীন কাদেরী শওকতের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দেশ-জাতির কল্যাণে তাঁর অব্যাহত অবদানের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আদর্শিক অবস্থান ও নির্ভীক সাংবাদিকতা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।








