আয়োজকরা জানান, শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন রুট। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, চা-বাগানসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাতায়াত করেন। সড়কের দুই পাশে দেশীয় ও দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় পরিবেশ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কৃষিবিদ ও তরুণ উদ্যোক্তা মুঈদ আশিক চিশতি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কাজী নাজমুল হক, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সম্পাদক ও সেভ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার-এর মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি আহমেদুজ্জামান আলম, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব ও সংগঠনের সহ-সভাপতি রুবেল আহমদ, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আহাদ মিয়াসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজকরা জানান, পলাশ (Butea monosperma) বাংলাদেশের একটি দেশীয় বৃক্ষ, যা তার উজ্জ্বল লাল-কমলা রঙের ফুলের জন্য ‘বসন্তের অগ্নিশিখা’ নামে পরিচিত। বসন্তকালে ফোটা এই ফুল মৌমাছি, প্রজাপতি ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখিকে আকৃষ্ট করে, যা পরাগায়ন বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি দেশীয় বৃক্ষরোপণ স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও ইতিবাচক অবদান রাখে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু সবুজায়নের কর্মসূচি নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার সামাজিক দায়িত্ব। পর্যটন এলাকাগুলোতে দেশীয় বৃক্ষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি এলাকার নান্দনিক সৌন্দর্য এবং পর্যটনের আকর্ষণও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
পরিবেশবান্ধব এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে সবুজ ও জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ পরিবেশ গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।